“শেখ হাসিনা ভারতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্মানিত অতিথি, প্রত্যার্পণযোগ্য বন্দি নন”: ভারতের অবস্থান সুস্পষ্ট

“শেখ হাসিনা ভারতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্মানিত অতিথি, প্রত্যার্পণযোগ্য বন্দি নন”: ভারতের অবস্থান সুস্পষ্ট
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক


ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে কোনো বন্দি বা অভিযুক্ত হিসেবে নেই। তিনি একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্মানিত অতিথি হয়ে এসেছেন এবং তাঁকে প্রত্যার্পণের মতো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখা হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। যেকোনো প্রত্যার্পণের বিষয় আইনি বিষয় এবং তা সেই অনুযায়ী দেখা হবে।”

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে দাঙ্গা-সংঘাতের পর বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তায় ও বিমান বাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজে ভারতে আশ্রয় নেন।

তিনি সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে যেতে চান এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন।

তিনি বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে… মৃত্যু যদি আসে, তাহলে আমার নিজের মাটিতে আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন।”

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ দাবি করেছে। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “আমরা তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি ফিরলে আমরা স্বাগত জানাব, কারণ আমরা বিচার নিশ্চিত করতে চাই।”

তবে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শেখ হাসিনা ভারতে স্বেচ্ছায় আছেন এবং তাঁর অবস্থান সম্মানিত অতিথির মর্যাদায়। প্রত্যার্পণের দাবি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে, কিন্তু নয়াদিল্লির মৌলিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে এবং দেশটির শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, জনগণেরই সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার রয়েছে।

ভারতের এই স্পষ্ট বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে, শেখ হাসিনাকে কোনো ‘বন্দি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে না বরং তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের সম্মানিত অতিথি। প্রত্যার্পণের বিষয়টি পুরোপুরি আইনি চ্যানেলের ওপর নির্ভর করবে, যা এই বিশেষ পরিস্থিতি বা ঘটনার জন্য প্রযোজ্য নয়।

Visited 68 times, 1 visit(s) today