কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নারী সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুতি: তদন্ত চলাকালে সম্পাদক মিন্টুর পদত্যাগ

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নারী সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুতি: তদন্ত চলাকালে সম্পাদক মিন্টুর পদত্যাগ
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


নারী সাংবাদিককে কুপ্রস্তাব, নিপীড়ন ও চাকুরীচ্যুতির অভিযোগে তদন্ত চলাকালে বাংলানিউজ২৪.কমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। যদিও পদত্যাগী সম্পাদক মিন্টুর ভাষ্য, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

ভুক্তভোগী এক সাবেক নারী প্রতিবেদক বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামসহ (সিএমজেএফ) বেশ কয়েকটি সাংবাদিক ও নারী সংগঠনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

একই সাথে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অবগতির জন্যও পাঠিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক নির্যাতন করেছেন এবং পরবর্তীতে প্রতিশোধমূলক চাকরিচ্যুতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী ওই নারী সাংবাদিক স্পষ্ট করেছেন যে, তার এই লড়াইয়ের উদ্দেশ্য চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়া নয়; বরং কর্মস্থলে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যায় প্রতিশোধমূলক আচরণের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক জানান, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে অভিযুক্ত সম্পাদক বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজ কক্ষে ডেকে পাঠাতেন। সংবাদমাধ্যমের প্রচলিত রিপোর্টিং প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে তাকে ব্যক্তিগত কিছু দায়িত্বও দেওয়া হতো। একপর্যায়ে সংবাদ পরিকল্পনার কথা বলে ওই সম্পাদক তাকে কার্যালয়ের বাইরে ‘জিন্দা পার্ক’-এ নিয়ে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখান থেকে ফেরার পথে গাড়িতে অবস্থানকালে অভিযুক্ত সম্পাদক তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা করেন।

এছাড়া, আরও একটি স্থানে (‘ড্রিম হলিডে’) নিয়ে গিয়ে উক্ত সম্পাদক তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, অফিসে কাজের ছলে বা বিভিন্ন বাহানায় অভিযুক্ত সম্পাদক তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন এবং অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতেন।

শুধু সরাসরিই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত ফোনকলের মাধ্যমেও তাকে বারবার বিরক্ত করা হতো। চ্যাটিং ও ফোনকলে যৌন সুরসুরি ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠানো এবং তার ব্যক্তিগত ও যৌন জীবন নিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর আলোচনায় জড়ানোর চেষ্টা চালানো হতো।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, সম্পাদক কর্তৃক অনৈতিক প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান ও এসব আপত্তিকর আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পর থেকেই তার ওপর প্রতিশোধমূলক প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করার পাশাপাশি পেশাগতভাবে কোনঠাসা করে ফেলা হয়।

পরবর্তীতে এর জের ধরেই তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ ঘটনার আগে তার পেশাগত দক্ষতা নিয়ে কোনোদিন প্রশ্ন ওঠেনি।

”প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় তার করা দুটি বিশেষ প্রতিবেদন ‘বেস্ট রিপোর্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল এবং তিনি পুরস্কৃতও হয়েছিলেন। ফলে তার চাকরিচ্যুতি যে কোনো পেশাগত ব্যর্থতার কারণে নয়, বরং আপোস না করার মাশুল ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ” বলে দাবি ঐ নারী সাংবাদিকের।

সংগঠনগুলোতে দেওয়া আবেদনে ওই সাংবাদিক জানান, তিনি প্রতিষ্ঠানে ও সাংবাদিক মহলে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন। পেশাগত ও সাংগঠনিক পর্যায়ে যদি তিনি সঠিক বিচার না পান, তবে সহকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। প্রয়োজনে তিনি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী সাংবাদিক আরও দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত সম্পাদকের সাথে তার ফোনালাপের অডিও রেকর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা প্রেরণের উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ও নথি তার হেফাজতে রয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে কিংবা উপযুক্ত সময়ে এসব প্রমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলে ঐ নারী তার অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

Visited 4 times, 1 visit(s) today