বাগেরহাটে জমি-জমার বিরোধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন

বাগেরহাটে জমি-জমার বিরোধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


বাগেরহাটের রামপালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহাদ আহমেদ ইতু (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বাবা শেখ ফরিদুজ্জামান গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ ২১শে সেপ্টেম্বর, সোমবার সকালে উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাদ আহমেদ ইসলামাবাদ গ্রামের শেখ ফরিদুজ্জামানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহাদ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জমির সীমানা নিয়ে আহাদের পরিবারের সঙ্গে তাদের চাচাতো ভাই বাকি বিল্লাহ ও মাসুমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সোমবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা দিয়ে পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে বাকি বিল্লাহ ও মাসুমের পক্ষের লোকজন আহাদ ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলায় আহাদ ও তার বাবা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আহাদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তার বাবাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, হামলায় অভিযুক্ত বাকি বিল্লাহ ও মাসুম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হামলার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিরোধের সম্পৃক্ততা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব আল রশীদ বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের হামলায় একজন নিহত ও তার বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তখনও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা করা হবে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের আটকের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, নিহত আহাদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অভিযুক্তরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Visited 11 times, 3 visit(s) today