স্থানীয় সংবাদদাতা
উপজেলা মহিলা দলের নবগঠিত কমিটিতে পদ পাওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকার ধামরাইয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালতে। উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বাদী হয়ে সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রুস্তম আলীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন মামলাটির বাদী ফরিদা ইয়াসমিন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২ জুলাই উপজেলার বানেশ্বর ব্রিজ এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের পথরোধ করে পদ পাওয়ার কথা তুলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বিবাদী রুস্তম আলী ও তার সহযোগীরা। টাকা না দিলে পদ থেকে বাদ দেওয়া, মিথ্যা মামলা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট রাতে ফরিদা ইয়াসমিনকে ফোনে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার বাড়িতে তল্লাশির নামে ঢোকার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন মামুনুর রশিদ, মেরিনা আক্তার বিনা, আয়েশা আক্তার ডলি, একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী অজ্ঞাত ব্যক্তি এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগী।
সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দলীয় পদ পাওয়ার পর থেকেই একটি চক্র আমার ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে এবং চাঁদা দাবি করছে। বাধ্য হয়ে সুবিচারের আশায় আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছি।”
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রুস্তম আলী জানান, মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, ফরিদা ইয়াসমিন নিজেই এলাকায় কৃ্ষি ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগ ও মামলার ঘটনায় ধামরাইয়ে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
