❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
বগুড়া সদর উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বরাদ্দ করা সারের মজুদের হিসাবে অসংগতি ধরা পড়েছে। এক ডিলারের গুদামে ১৭৬ বস্তা ডিএপি সারের হদিস পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় দুই ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি সারের সঠিক হিসাব তৈরি করে গুদামের মজুদ ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার বিকেল ও রাতে সদর উপজেলার সাবগ্রাম এবং কলোনি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল ওয়াজেদ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ অভিযান দুটিতে নেতৃত্ব দেন।
এ সময় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান এবং পুলিশের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ‘মেসার্স এস আর এগ্রো’ ও ‘সোনালি ট্রেডার্স’ নামে দুই সার ডিলার বিএডিসি থেকে ৩৭৬ বস্তা করে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উত্তোলন করেছিলেন। গুদামে রাখা সার এবং খাতাপত্রের হিসাব মিলিয়ে দেখতে গিয়ে অসংগতি পাওয়া যায়।
অভিযানের সময় দুই ডিলারই মজুদের হিসাবে গরমিল থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত উভয় প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
একই সঙ্গে দুই কর্মদিবসের মধ্যে ৩৭৬ বস্তা করে ডিএপি সারের সঠিক মজুদ দেখিয়ে হিসাব ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোববার বিকেলে সাবগ্রাম এলাকায় মেসার্স এস আর এগ্রোতে অভিযান শেষে ইউএনও আবদুল ওয়াজেদ বলেন, ডিলার নিজেই গুদামের মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না এবং সেখানে সার এলোমেলোভাবে রাখা ছিল।
মজুদের হিসাব ঠিক না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব ও মজুদ ঠিক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাতে বগুড়া মহানগরীর কলোনি এলাকায় সোনালি ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ বলেন, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সেখানে অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি ৩৭৬ বস্তা সার উত্তোলন করলেও ১৭৬ বস্তার হদিস পাওয়া যায়নি। এ কারণে মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ডিলারশিপের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান বলেন, সার ও বীজের মজুদ নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে। অভিযোগটি সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা কমিটির কাছেও সুপারিশ করা হবে।
