আফগান সীমান্ত খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা পাকিস্তানের, সীমান্ত সংঘর্ষে ১২ জঙ্গি নিহত দাবি সেনাবাহিনীর

আফগান সীমান্ত খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা পাকিস্তানের, সীমান্ত সংঘর্ষে ১২ জঙ্গি নিহত দাবি সেনাবাহিনীর
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার বিরোধী দল পিটিআই-শাসিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এতে ইসলামাবাদ ও প্রাদেশিক সরকারের রাজনৈতিক বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সময়ে আফগান সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত আছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তে সংঘর্ষে তারা ১২ জন পাকিস্তানি তালিবান (টিটিপি) ও আফগান তালিবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

 

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের বরাতে জানা গেছে, রোববার (১১ অক্টোবর) ফেডারেল মন্ত্রিসভা জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। এরপর রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি তাতে সম্মতি দেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ দুটি অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীরা এমন কিছু নথি উপস্থাপন করেন যাতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রাদেশিক সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে সরে গেছে। তাঁরা পরিস্থিতি অবনতির কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়ার সুপারিশ করেন।

 

শাহবাজ শরিফ পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে ফেলার অভিযোগও তোলেন। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি সম্প্রতি ইসলামাবাদের দিকে একটি বড় প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগোচ্ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে।

সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) কুররাম এলাকায় সীমান্তের কাছে সংঘর্ষে ১২ জন টিটিপি সদস্য ও আফগানিস্তান থেকে আসা তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী বলছে, আফগানিস্তান থেকে টিটিপি যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা তারা ব্যর্থ করেছে। তাদের দাবি, তখন আফগান তালিবানের সীমান্ত চৌকি থেকে টিটিপির পক্ষে গুলি চালানো হয়। ওই ঘটনায় একজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।

আফগান তালিবান কর্তৃপক্ষ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে যে তাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত হয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের দান্দ পাটান জেলায় তালিবান বাহিনী ও পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে আলাদা একটি সংঘর্ষ হয়। তালিবানের ২০৩ মনসুরি কোর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী প্রথম গুলি চালায় এবং তালিবান পাল্টা জবাব দেয়। কোরের মুখপাত্র আবদুল হক ফিদা পরে জানান, তালিবান পক্ষে হতাহত ছাড়াই লড়াই শেষ হয়েছে।

 

ইসলামাবাদের অভিযোগ, টিটিপি আফগানিস্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে তৎপরতা চালায় এবং তালিবান কর্তৃপক্ষ সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি তৎপরতা ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি রাখেনি। আফগান তালিবান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই বিরোধের জেরে সীমান্তে একাধিকবার সংঘর্ষ ও আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানি বিমান হামলা হয়েছে। কিছু হামলায় বেসামরিক হতাহতের কথা জানিয়েছে আফগান তালিবান কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘ। কিছু ঘটনায় তালিবানও পাকিস্তানের দিকে ড্রোন ছুড়েছে বলে খবর আছে।

আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগও এতে চাপে পড়েছে। কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা সত্ত্বেও উত্তেজনা কমেনি। আফগানিস্তানবিষয়ক মস্কো ফরম্যাটের অষ্টম বৈঠক সম্প্রতি কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।

Visited 11 times, 1 visit(s) today