নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬।
২০২৪ সালের র সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের একটি অংশের সন্ধান না মেলায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিরাও ছিলেন। তাদের কেউ আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংগঠনটির সঙ্গে বিদেশি কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদী তৎপরতায় সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো, সদস্যসংখ্যা কিংবা কোনো সশস্ত্র তৎপরতায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে অন্তত ৬৯০ জন বন্দি পালিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিও ছিলেন। নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো বন্দিদের মধ্যে অন্তত ২৭ জন জঙ্গি ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা কয়েকজন পলাতক বন্দির মধ্যে ছয়জনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তাঁদের পরিচয়, মামলার অবস্থা ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
কারাগার থেকে পলাতক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি পুনরায় উগ্রবাদী নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের বিষয়। এ ক্ষেত্রে পলাতক বন্দিদের অবস্থান শনাক্ত করা, তাঁদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক যাচাই এবং সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান জরুরি।
এদিকে তেজগাঁওয়ের ঘটনার পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি পিকআপে অগ্নিসংযোগের খবর দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়েও রাজধানীর কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে আটক ব্যক্তিরা কিংবা কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত কি না, তার প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে ঘটনাগুলোকে একই সংগঠিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার আগে তদন্তের ফল জানা প্রয়োজন।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, বাংলাদেশে উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে গোষ্ঠীগুলোর পুনর্গঠনের সম্ভাবনা এবং সেগুলোর ওপর নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক ওয়ারেন্ট অফিসারের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) যোগাযোগের অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে।
