❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এ প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা শুরুর জন্য জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় মন্দির সুরক্ষায় জামায়াতের কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসাও করেন তারা।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার ও বিরোধী দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সভায় আমন্ত্রিত নেতারা।
গোলাম বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতারও এ বিষয়ে সাংবিধানিক কর্তব্য রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা নিজের ভূমিকা যতটুকু পালন করেন, তা তিনি সভায় তুলে ধরেছেন বলেও জানান গোলাম।
গোলাম আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকার বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা ও দুঃখ-কষ্টের কথা জানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিরোধী দলের সহায়তা চেয়েছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পাশে থাকবে বলে জামায়াত নেতারা আশ্বস্ত করেছেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, দুর্গোৎসব সামনে রেখে বিরোধীদলীয় নেতার আমন্ত্রণে তারা সভায় যোগ দেন।
তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা ২৯ শতাংশ থেকে আটে নেমে এসেছি। এইটার সঙ্গে এটা মিলছে না।”
ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সত্যিকারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে সবাই যেন একসঙ্গে তুলে ধরতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বাসুদেবের ভাষ্যে, সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি নেই উল্লেখ করে বাসুদেব বলেন, “সংসদে আমাদের কেউ নেই। আমরা সংসদে আসতে চাই। কীভাবে আসব, তা বিরোধী দল এবং সরকারি দল মিলে ঠিক করবেন। এই কথাগুলো আলোচনার মধ্যে এসেছে।”
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী জামায়াতকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে যে শুভ সূচনা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবাই যেন দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন—জামায়াতের আমির আজ সেই আহ্বান জানিয়েছেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায় ও মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক; হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ; পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা; পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অর্পনা রায় ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য;
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার; আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাশ ব্রহ্মচারী; ঋষি পঞ্চায়েত ফোরামের সভাপতি রামানন্দ দাস ও সাধারণ সম্পাদক রাজ কুমার দাস; এবং সনাতন পার্টির সভাপতি আশিষ রঞ্জন দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়সহ অন্যরা।
দলিত সংগঠনগুলোর নেতারাও মতবিনিময়ে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন রবিদাস ফোরামের সভাপতি চাঁদমোহন রবিদাস ও সাধারণ সম্পাদক শিপন রবিদাস প্রাণকৃষ্ণ, এবং রবিদাস উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি দিলীপ রবিদাস ও সাধারণ সম্পাদক ফুল চাঁদ রবিদাস।
সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ছিলেন হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণলাল ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ দে।
