বিশেষ প্রতিবেদক। ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে উঠতে পারে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা চলাকালে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
আঞ্চলিক চিত্র
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশের ১০.৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অন্য দেশগুলোর পূর্বাভাস:
- পাকিস্তান: ৯.৯ শতাংশ
- ভুটান: ৬.৫ শতাংশ
- নেপাল: ৫.৮ শতাংশ
- শ্রীলঙ্কা: ৫.৪ শতাংশ
- ভারত: ৪.৪ শতাংশ
- মালদ্বীপ: ২.৫ শতাংশ
আগের বছরের তুলনায় ঊর্ধ্বগতি
আগের অর্থবছরে ভোক্তা মূল্যসূচক ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭ শতাংশে নেমেছিল। নতুন পূর্বাভাসে সেই নিম্নমুখী ধারা উল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ আইএমএফের পূর্বাভাস বাস্তবে মিললে চলতি অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরের হারের চেয়েও বেশি হবে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী দাম বাড়লে পরিবারগুলোকে খাদ্য, পরিবহন ও বাসাভাড়ার মতো অতি প্রয়োজনীয় খাতে বেশি খরচ করতে হবে। এতে সঞ্চয় ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ কমে যাবে। ভারত ও মালদ্বীপের মতো দেশের সঙ্গে ব্যবধান দেখাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ মূল্যচাপ সামলানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বোঝা কমানো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রবৃদ্ধিও কমছে
আইএমএফ চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এপ্রিলের ৪.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.২ শতাংশ করেছে। গত অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জন্য প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব ধরা হয়েছে ৩.৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
আইএমএফ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে ৪.৭ শতাংশ থাকার পর ২০২৭ সালে ৪.১ শতাংশে নামতে পারে। আইএমএফ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
