প্রথম ইনিংসে ২৪ রানের সামান্য লিড পেলেও রোস্টন চেইস ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ব্যাকফুটে চলে গেছে বাংলাদেশ। চেইসের তিন আঘাতের পর ওয়ারিকান জোড়া উইকেটের পতন ঘটালে দিন শেষে স্বাগতিকদের রান দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭৯। বাংলাদেশের লিড এখন পর্যন্ত ১০৬ রানের।
তৃতীয় দিনে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন অপরাজিত ছিলেন কনকাশন সাব হিসেবে নামা জাকের আলী (১৮*) ও নাঈম হাসান (১৮*)। প্রথমার্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ক্যাচ ধরার চেষ্টার সময় মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন মুমিনুল হক, যার বদলি হিসেবে জাকেরকে একাদশে সুযোগ দেয়া হয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের বলে দ্বিতীয় স্লিপে চেইসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান। প্রথম ইনিংসে ৭ রান করার পর এবার খাতা না খুলেই বিদায় নেন এই ওপেনার।
তবে ধসের মূল শুরু একাদশ ওভারে। চেইস বোল্ড করেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান শাদমান ইসলামকে (১৩)। দুই বল পর তাওহীদ হৃদয়কে মিড-অনে সিলসের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান তিনি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে (১০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। মাত্র ১০ বলের ব্যবধানে ৩ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন চেইস।
চায়ের বিরতির পর চাপ আরও বাড়ে। লিটন দাসকে (৪) এলবিডব্লিউ করে শিকার শুরু করেন বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিকান। ২২তম ওভারে তার দ্রুতগতির আর্মার বলে পরাস্ত হয়ে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে ৫৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। তবে এরপর জাকের ও নাঈম অবিচ্ছিন্ন ২৬ রানের জুটি গড়ে দিনের বাকি সময় পার করে দেন।
এর আগে ৪ উইকেটে ১৫৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ২৪৮ রানে অলআউট হয়। দিনের শুরুতেই তােজুল ইসলামকে ছক্কা মেরে ফিফটি স্পর্শ করা তগেনারায়ণ চন্দ্রপলকে (৫৬) দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ বানান শরিফুল ইসলাম। এরপর চেইস ও জাস্টিন গ্রিভস ষষ্ঠ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ৫১ রান যোগ করেন। এই জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান, ৪৬ রান করা গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করে।
লাঞ্চের পর জশুয়া বিশপকে (১৫) স্টাম্পিং করেন মিরাজ। এরপর এক ওভারেই শামার জোসেফ ও ওয়ারিকানকে বিদায় করে চার উইকেট পূর্ণ করেন নাঈম। শেষ পর্যন্ত ২৪৮ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস। নাঈম ৩৩ রানে ৪টি উইকেট নেন।
