সড়ক উন্নয়নের নামে ৪ কি.মি জায়গাজুড়ে সরকারি গাছ গিলে খেলেন শ্রমিকদল নেতা, ফাঁস করলেন ছাত্রদল নেতা

সড়ক উন্নয়নের নামে ৪ কি.মি জায়গাজুড়ে সরকারি গাছ গিলে খেলেন শ্রমিকদল নেতা, ফাঁস করলেন ছাত্রদল নেতা
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


বরিশালের উজিরপুরে সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশের দুই পাশের সরকারি জায়গার শত শত গাছ কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর নেতৃত্বে তার লোকজন এই গাছগুলো কেটে আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার উজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সানুহার থেকে ধামুরা সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। গত ২রা নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কাজ পরিদর্শন শেষে কার্যালয়ে ফিরে যান উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পুনরায় কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়কের মাঝামাঝি অংশে তিন-চারটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

পরবর্তীতে সরেজমিনে সানুহার-ধামুরা সড়কের পুরো চার কিলোমিটার অংশজুড়ে নির্বিচারে গাছ কেটে নেওয়ার ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সড়কের পাশের সরকারি গাছগুলোতে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় গাছ কাটা। দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে নির্বিচারে গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে সানুহার থেকে কচুয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গাছ সম্পূর্ণ সাফ করে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মী জানিয়েছেন, উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ী তার নিজস্ব লোকজন নিয়ে এই গাছগুলো কাটিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে উজিরপুরের শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে সরকারি গাছ কাটার জন্য সরাসরি উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনকে দায়ী করা হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতাদের অনুরোধে তিনি সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন বলে বুধবার দুপুরে স্বীকার করেন। পোস্ট মুছে ফেললেও গাছ কাটার সত্যতা রয়েছে বলে জানান ওই ছাত্রদল নেতা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শ্রমিকদল নেতা জিয়া আমিন রাঢ়ীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উজিরপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলছেন, সাবেক এক সংসদ সদস্য স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কয়েক বছর আগে এগুলো রোপণ করেছিলেন। তবে রাস্তার পাশের গাছ হওয়ায় এগুলো সরকারি সম্পদই বলা যায় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, সড়কটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো কারা লাগিয়েছিলেন তা নিশ্চিত নয়। তবে সরকারি জায়গায় বড় হওয়া এসব গাছ চুরি হওয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই করে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা-পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Visited 2 times, 1 visit(s) today