সৌদির প্রস্তাবে হুথিদের শর্ত: সৌদি আরবকে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইয়েমেনের শাসক হিসেবেও স্বীকৃতি দাবি

সৌদির প্রস্তাবে হুথিদের শর্ত: সৌদি আরবকে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইয়েমেনের শাসক হিসেবেও স্বীকৃতি দাবি
শেয়ার করুন
যুদ্ধ বন্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় ৫১ বিলিয়ন ডলারের দাবি হুথিদের;
সামরিক হামলা ও দীর্ঘদিনের অবরোধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই অর্থ চায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী।

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬।


ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ করতে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। তবে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হুথিদের দেওয়া শর্ত রিয়াদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে হুথিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ২০০ কোটি টাকা (প্রায় ৬.২ লাখ কোটি টাকা)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলা এবং অবরোধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই অর্থ দাবি করেছে হুথিরা। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণই নয়, ইয়েমেনের শাসক হিসেবেও হুথি নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

কেন ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি করছে হুথিরা?

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনাই ছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের ঘোষিত উদ্দেশ্য।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ইয়েমেনে বিমান হামলা, স্থলযুদ্ধ ও অবরোধ চলেছে। হুথিদের দাবি, এসব সামরিক অভিযান ও অবরোধে ইয়েমেনের অবকাঠামো, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৫১ বিলিয়ন ডলারের দাবিকে তারা সেই ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

 

সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে হুথিদের সামরিক অবস্থান

WSJ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পর হুথিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।

বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এই অঞ্চলে হুথিদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়া সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

 

হুথিদের স্বীকৃতি দিলে কী হবে?

৫১ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি হুথিদের দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, সৌদি আরবকে ইয়েমেনের শাসক হিসেবে তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

এটি সৌদি আরবের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক জটিলতা। কারণ, এতদিন রিয়াদ ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। হুথিদের শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেই অবস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে এবং ইয়েমেনে ইরান-ঘনিষ্ঠ শক্তির রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হতে পারে।

অন্যদিকে, হুথিদের দাবি মেনে না নিলে সৌদি আরবকে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত ও সীমান্ত নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হতে পারে। নতুন করে বড় আকারের স্থল অভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও সৌদি বাহিনীর সম্ভাব্য প্রাণহানি এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরব কোনো চুক্তি করেছে বা হুথিদের শর্ত মেনে নিয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। WSJ-এর প্রতিবেদনটি আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত।

Visited 3 times, 3 visit(s) today