শীতে চাই বডি প্যাম্পারিং : যেভাবে করবেন

শীতে চাই বডি প্যাম্পারিং : যেভাবে করবেন
শেয়ার করুন

ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে, এই ভয়ে, শীতকালে অনেকেই গোসল সারেন তাড়াহুড়ো করে। কেউ কেউ প্রতিদিন করেনও না। অথচ এ সময় প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল জরুরি। ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে সপ্তাহে একদিন চাই বিশেষ যত্ন। যাকে বলা যায় বডি প্যাম্পারিং। রূপ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

বডি প্যাম্পারিং হলো শরীরের বিশেষ যত্ন। যা কয়েক ধাপে নিতে হয়। প্রথমে ক্লিনজিং, এরপর ম্যাসাজ, স্ক্র্যাবিং, হট ওয়াটার বাথ এবং সব শেষে ময়েশ্চারাইজিং। আবহাওয়া যা-ই থাকুক, ক্লিনজিং ও ময়শ্চারাইজিং ত্বক পরিচর্যার মূলমন্ত্র।

শুষ্ক দিনে নরম ত্বকের জন্য সাবানের বদলে শাওয়ার জেল, বডি ম্যাসাজ ও পলিশিংয়ের পরামর্শ দেন রূপ বিশেষজ্ঞরা। আর ময়েশ্চারাইজার হওয়া চাই সার্বক্ষণিক সঙ্গী। ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে প্রতিদিন একবার গোসলের পাশাপাশি ত্বকের প্রাকৃতিক সজীবতা ধরে রাখতে সপ্তাহে একদিন অন্তত বডি প্যাম্পারিং প্রয়োজন।

ম্যাসাজ

মুখমণ্ডল, শরীর কিংবা স্কাল্পের ত্বক সুরক্ষায় ম্যাসাজের বিকল্প নেই। এতে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে শরীর ও মনকে সতেজ করার প্রাচীনতম পদ্ধতি বডি ম্যাসাজ। ম্যাসাজের মূল উপাদান ম্যাসাজ অয়েল। যুগ যুগ ধরে ম্যাসাজের জন্য অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার হয়ে আসছে। এই তেলের সুগন্ধ মানসিক প্রশান্তি আনে। বিভিন্ন ধরনের অ্যাসেনশিয়াল অয়েল বাজারে পাওয়া যায়। চাইলে ঘরেও তৈরি করে নেওয়া যায়।

৫০ মিলিলিটার আমন্ড অয়েল, ৫০ মিলিলিটার অলিভ অয়েল, চার ফোঁটা চন্দন কাঠের তেল, চার ফোঁটা রোজ অ্যাসেনশিয়াল অয়েল নিন। গোলাপের পরিবর্তে জেসমিন, ল্যাভেন্ডার বা ইচ্ছামতো অ্যাসেনশিয়াল অয়েল নিতে পারেন। এবার সব উপাদান ভালোভাবে মেশান। আলতো হাতে শরীরে ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ হবে সার্কুলার মুভমেন্টে। বডি ম্যাসাজের সময় কারো সাহায্য নেওয়া ভালো। বিশেষ করে পিঠের ম্যাসাজের জন্য। ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় রাখুন ম্যাসাজে। এরপর কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে নিন। ম্যাসাজের পরই শরীর ও মন থেকে ক্লান্তি ও অবসন্নতা বোধ দূর হতে শুরু করবে।

বডি পলিশিং বা স্ক্র্যাবিং

ম্যাসাজের পরের ধাপ পলিশিং বা স্ক্র্যাবিং। ত্বকের মৃত কোষ, লোমকূপে জমে থাকা ধুলা-ময়লা পরিষ্কারে প্রয়োজন বডি পলিশিং। পলিশিংয়ের জন্য স্ক্র্যাবার। স্ক্র্যাবারের দানাদার উপাদান সহজেই ত্বকের মৃত কোষ ও জমে থাকা ময়লা দূর করে ত্বকে সতেজতা ফিরিয়ে আনে। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী স্ক্র্যাবারের উপকরণ নির্বাচন করতে হয়। না হলে ত্বকের উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।

  • তৈলাক্ত ত্বক: এক কাপ সি সল্টের সঙ্গে অর্ধেকটা লেবু, ১০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল এবং ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। সি সল্ট পাওয়া না গেলে রান্নাঘরের খাবার লবণেও কাজ হবে। এবার এই মিশ্রণটি পুরো শরীরে সার্কুলার মুভমেন্টে ম্যাসাজ করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।
  • স্বাভাবিক ত্বক: দানাদার কফি, চালের গুঁড়া ও চিনি। সম্ভব হলে এতে যোগ করুন এভোকাডো, তিল অথবা অন্য কোনো সুগন্ধযুক্ত অ্যাসেনশিয়াল অয়েল। চাইলে এর সঙ্গে পাকা পেঁপে ও গোলাপের পাপড়ি মিশিয়ে নিতে পারেন। ফলমূলে থাকা প্রাকৃতিক এসিড ত্বক পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে ত্বক ফর্সা করে।
  • নাজুক বা সংবেদনশীল ত্বক: এ ধরনের ত্বকের জন্য হালকা কোনো বডি পলিশ নির্বাচন করা উচিত। ল্যাভেন্ডার অয়েল আর শিয়া বাটারের মিশ্রণে চালের গুঁড়া আর চিনি মিশিয়ে স্ক্র্যাবার বানিয়ে নিন। চাইলে এমন কোনো তেল বেছে নিতে পারেন, যেটিতে ভিটামিন এ, ই এবং সি আছে। যেমন- পিউর আমন্ড অয়েল। ত্বকের কোনো অসুখ বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে স্ক্র্যাবিংয়ের উপাদান নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া ভালো।

এবার ত্বক উপযোগী স্ক্র্যাবার নিয়ে পুরো শরীরে ঘষে ঘষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এরপর তোয়ালে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে শরীর মুছে নিন।

হট ওয়াটার রিল্যাক্সেশন

পলিশিংয়ের পর বাথটাবে ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে কিছুক্ষণ রিল্যাক্স করুন। পানিতে অ্যারোমেটিক অয়েল ও ফুলের পাপড়ি ব্যবহার করুন। সুগন্ধি তেল, যেমন—জেসমিন ও চন্দন এবং ফুলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন গাঁদা ও গোলাপের পাপড়ি। বাথটাব না থাকলে শাওয়ারের ঈষদুষ্ণ গরম পানির নিচে দাঁড়ান। সবশেষে কয়েক মিনিট ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল শেষ করুন।

ময়েশ্চারাইজিং

শীতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ক্লিনজিংয়ের পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজিংয়ের ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লোশন বেছে নিন। গোসলের পরই ভেজা শরীরে ময়েশ্চারাইজার লাগান। হালকা হাতে সার্কুলার মুভমেন্টে ম্যাসাজ করে ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে।

দিনভর সুরক্ষায়

বাসায় কিংবা বাইরে শীত সামলাতে হাতের কাছে সব সময় কিছু জিনিস তৈরি থাকা চাই। তালিকায় থাকুক কোল্ড ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ও লিপবাম। এগুলো শুধু শীতের রুক্ষতাকে দূরেই রাখবে না, করবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। সাধারণ বা তৈলাক্ত ত্বকের চেয়ে শীতে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা বেড়ে যায়। এ ধরনের ত্বকে শীতে শিয়া বাটারসমৃদ্ধ অয়েলি ময়েশ্চারাইজার ভালো। আর মুখের ত্বকের জন্য জেল বেসড ফর্মুলা এড়িয়ে বেছে নিতে হবে ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজার।

তৈলাক্ত ও স্বাভাবিক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার কিংবা কোল্ড ক্রিম ভিটামিন এ, সি কিংবা ই-যুক্ত হলে ভালো। আর বাইরে বেরোনোর আগে সবার জন্যই সানস্ক্রিন আবশ্যক। এ সময় ময়েশ্চারাইজড বেসড সানস্ক্রিন ভালো। ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করবে। সঙ্গে ত্বকের ময়েশ্চার বজায় রাখবে।

Visited 22 times, 1 visit(s) today