ঢাকা, ৫ জানুয়ারি ২০২৫: প্রথিতযশা সাংবাদিক নুরুল কবীরের সাথে প্রধান উপদেষ্টার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে। সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের বিপ্লবটি শুধু ছাত্রদেরই অর্জন ছিল। যদিও তিনি জনগণ এবং সামরিক বাহিনীর অবদান অস্বীকার করেননি, তথাপি তিনি মনে করেন যে ছাত্ররাই আসল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এই মন্তব্যটি জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে, কারণ বিপ্লবের ক্ষেত্রে সকলেরই অবদান ছিল বলে অনেকে মনে করেন।
এছাড়া, বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণে বিলম্বের জন্য বুরক্রেটিজমকে দায়ী করে তিনি বলেন, “আমি বুরক্রেটিজম বুঝি না এবং তাদের দায়ী মনে করি না।” এই বক্তব্যটিও অনেকের জন্য বিভ্রান্তিকর হয়েছে, কারণ প্রশাসনিক জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা সমাধান না হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে, প্রধান উপদেষ্টা সিন্ডিকেটের কার্যকলাপ নিয়ে কিছু বক্তব্য দিলেও, তিনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মূল কারণ হিসেবে প্রতিদিনের চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করেন। এতে কৃষকদের ক্ষতির কথা তুলে ধরেন, তবে এই বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেননি।
তদুপরি, আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে তার সম্পর্ক ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে তিনি কিছুটা ধোয়াশা রেখেছেন। তার মতে, এই সম্পর্কের ফলে বাংলাদেশে কিছু সমস্যার উদ্ভব হতে পারে, তবে তার সরকারের করণীয় নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।
শেষে, উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়ে তার অস্পষ্টতা প্রকাশে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলির বিষয়ে পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গির অভাব দেশবাসীর মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
তবে, অনেকেই আশাবাদী যে প্রফেসর ইউনুসের নেতৃত্বে সরকারটি একটি শক্তিশালী এবং কার্যকরী প্রশাসন গড়ে তুলবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। তবে, সরকারের এই অস্থির অবস্থান এবং অদূরদর্শিতা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
