সংস্কারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেলো শিক্ষার্থীদের; পড়াশোনা শুরু হবে মার্চ থেকে!

সংস্কারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেলো শিক্ষার্থীদের; পড়াশোনা শুরু হবে মার্চ থেকে!
শেয়ার করুন

পাঠ্যবই বিতরণে আরও দেরি, মার্চের আগে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব নয়: শিক্ষা উপদেষ্টা

দেশের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোর বিষয়টি এবারও দেরিতে হচ্ছে। শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, আগামী মার্চের আগে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই পৌঁছানো সম্ভব হবে না। স্থানীয় ছাপাখানায় বই মুদ্রণ, পরিমার্জন এবং বইয়ের সংখ্যা বেশি হওয়াসহ নানা কারণে বই বিতরণে দেরি হচ্ছে, বলেন তিনি।

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ ছাপাখানায় বইয়ের পরিমাণ বেশি হওয়া, মুদ্রণ প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বইয়ের revisions (সংশোধন) প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘‘পাঠ্যবই এবার আগেও দেরিতে দেয়া হয়েছে, এবং এটি বারবার ঘটছে।’’

এই বিবৃতির মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা একদিকে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে সরকারের উদাসীনতা এবং পাঠ্যবই ছাপানোর প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার প্রতি তাঁর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।

পাঠ্যবই বিতরণে দেরি হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পাঠ্যবইয়ের যথাসময়ে বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বই পৌঁছানোর ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে, সম্প্রতি নিজেদের ব্যার্থতা আড়াল করতে জাতীয় পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রম বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানও এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘বছরের পর বছর বই উৎসবের নামে অর্থের অপচয় হয়েছে’’। বই উৎসবের আড়ালে প্রচুর সরকারি অর্থের অপচয় এবং দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও, সেগুলোর যথাযথ সমাধান হয়নি। একথা মাধ্যমে উনি বোঝাতে চেয়েছেন “বই উৎসব” করাটা আসলে টাকার অপচয়, এজন্য উনারা এবার বই উৎসব করেন নি। কিত্নু সত্য হচ্ছে, মোট বইয়ের ১৫% বই বিতরন করে আর যাই হোক “বই উৎসব” করা যায় না।

এছাড়া, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহমুদ আরও জানিয়েছেন যে, বিনামূল্যে পাঠ্যবই প্রকাশের জন্য সরকারকে অনেক ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ‘‘যতদিনে বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে, ততদিনে সেগুলো আগের থেকে অনেক সুন্দর হবে এবং বছরের মাঝখানে পাতাগুলোও ছিঁড়ে যাবে না।’’।

অথচ দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ২০১০ সাল থেকে বিনামূল্যে নতুন বই দিয়ে আসছে সরকার। মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য জন্য প্রায় ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৩ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল আর ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ জন। তাদের জন্য বই ছাপা হয়েছে মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি। অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (পাঁচটি ভাষায় রচিত) শিশুদের জন্য মোট ২ লাখ ৫ হাজার ৩১ কপি বই ছাপা হয়েছে। অন্য বইয়ের মধ্যে ৫ হাজার ৭৫২ কপি ‘ব্রেইল’ বই আছে। তাছাড়া শিক্ষকদের ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮টি ‘শিক্ষক সহায়িকা’ দেওয়া হয়েছে।

এবার বছরের প্রথমদিনে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মোট ৪১ কোটি বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। তবে, শিক্ষার্থীদের হাতে পুরো বই পৌঁছানোর জন্য আরও সময় লাগবে, এবং মার্চের আগ পর্যন্ত এটি সম্ভব হবে না, বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

যদিও ডিডি বক্তব্য দিয়েছেন অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে বই পড়ার জন্য। কিন্তু এই হাস্যকর উপদেশে যারপরনাই বিরক্ত অভিভাবকরা। অভিভাবকরা যারা বিগত এক দশক ধরে বছরের প্রথমদিনে পাঠ্যপুস্তক পেয়ে আসছেন, শিক্ষার্থিরা বছরের প্রথম দিন থেকে পড়াশোনা, কোচিং, নোটস তৈরিতে মনযোগী ছিলেন, সেই ধারায় ছেদ পরলো এবার।

এ পরিস্থিতিতে, সরকারের বিরুদ্ধে পাঠ্যবই বিতরণে সময়মতো ত্রুটি ও ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে, এবং শিক্ষাবিদরা মনে করছেন যে, সরকারের এই অব্যবস্থাপনা আগামীতে আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

Visited 36 times, 1 visit(s) today