সংবাদ প্রতিবেদন
প্রমথ চৌধুরী, যাঁকে বাংলা গদ্যে চলতি রীতির প্রবর্তক আখ্যায়িত করা হয়, তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর সাল নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে নতুন ছাপা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমত তুলোধুনা করা হচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং পাঠ্যবই সংস্কার সংশ্লিষ্ট সরকারের হর্তকর্তাদেরকে।
এনসিটিবি কর্তৃক একাদশ-দ্বাদশ ও আলিমের বাংলা বিষয়ের “সাহিত্য পাঠ” বইয়ের ৪০ নম্বর পৃষ্ঠায় দেখা গেছে, “সাহিত্যে খেলা” প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রমথ চৌধুরী ১৯৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, তিনি মৃত্যুর ২২ বছর পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ ভুল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করে বলা হচ্ছে, প্রমথ চৌধুরী এনসিটিবির টাইম মেশিনে উঠে মৃত্যুর পরেও ফিরে এসেছিলেন পৃথিবীতে কিংবা তার পুনঃজন্ম হয়েছে।
তবে সঠিক তথ্য অনুসারে, প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ই আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামে হলেও, তাঁর বাবা কর্মসূত্রে যশোরে বসবাস করতেন। তিনি ১৯৪৬ সালের ২রা সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।
এইচএসসি শ্রেণির প্রথম বর্ষের ক্লাস ২০২৩ সালের ১লা জুলাই শুরু হলেও, সরকার পরিবর্তনের পর ১৮ই নভেম্বর সংশোধন ও পরিমার্জনের পর নতুন বই বাজারে ছাড়া হয়। এনসিটিবি এই বই সংশোধনের দায়িত্বে ছিল এবং পরিমার্জন কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অধ্যাপক মো. রাফাত আলম মিশুর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছেন তারা।
যদিও এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলনের (শিশির) আহ্বায়ক রাখাল রাহা জানান, বই পরিমার্জনের সময় আমাদের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বইয়ের ফাইলগুলো ছবি ফরমেটে ছিল, যা সংশোধন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।
তবে এই ভুলটি আসলে মুদ্রণপ্রমাদ নাকি তথ্যগত ভুল, তা নির্ধারণ করা কঠিন বলে উল্লেখ করেন রাখাল রাহা।
এদিকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেছেন, “আমরা বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষার্থীদের এ ভুল সম্পর্কে অবহিত করব।”
কিন্তু বিজ্ঞপ্তি জারি হলে এসব বই প্রত্যাহার করে নতুন বই সরবরাহ করা হবে, নাকি সঠিক তথ্য শুধুমাত্র এনসিটিবির ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করে নিয়ে পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের, এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি কর্তৃপক্ষের।
