সংবাদ প্রতিবেদন
পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত চিত্রকর্ম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ২৭ বিশিষ্ট নাগরিক।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা এ ঘটনাকে ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ উল্লেখ করে বলেন, প্রথম পর্যায়ের হামলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং দ্বিতীয় দফায় হামলার সময় আক্রমণকারীদের সুরক্ষিত করার বিষয়টি দৃষ্টিকটু। অথচ এ ঘটনার পরও উল্লেখযোগ্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে তারা সতর্ক করেন, এমন ঘটনা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারকর্মীদের নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। এমনকি আক্রমণের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য পুলিশকে রাস্তায় পড়ে থাকা রক্ত পরিষ্কার করতেও দেখা গেছে। তারা বলেন, এ ধরনের আচরণ পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি দীর্ঘদিনের নিপীড়নেরই ধারাবাহিকতা।
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা একটি চিত্রকর্মে ‘আদিবাসী’ শব্দ উল্লেখ ছিল। চিত্রটিতে গাছের পাঁচটি পাতায় মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও আদিবাসী শব্দ লেখা ছিল, আর পাশে লেখা ছিল ‘পাতা ছেঁড়া নিষেধ’।
১২ই জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল এই চিত্রকর্ম বাতিলের দাবিতে এনসিটিবি ঘেরাও করলে রাতে বইয়ের অনলাইন সংস্করণ থেকে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বুধবার পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয়। একই সময় স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি নামক অন্য একটি দলও ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয়। ফলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ৩৩ জন আহত হয়।
পুলিশ হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে, তবে বিশিষ্ট নাগরিকরা মনে করেন, পুলিশের ভূমিকা রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীলতার অভাব এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী নিপীড়নের ইঙ্গিত দেয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা দেশের বৈচিত্র্যময় জাতিগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।
বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, রাশেদা কে. চৌধূরী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত, মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের সদস্য সচিব নুর মোহাম্মদ তালুকদার, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবায়দা নাসরিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।
এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
