বিদেশি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, চাকরি গেল বাকৃবির বিএনপিপন্থী অধ্যাপকের

বিদেশি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, চাকরি গেল বাকৃবির বিএনপিপন্থী অধ্যাপকের
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. এম. হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মালয়েশিয়ার এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

চাকরিচ্যুত অধ্যাপক ড. এম. হারুন-অর-রশিদ বাকৃবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সোনালি দলের’ নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ান ছাত্রী প্রিসিলা প্রিয়াঙ্কার ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশে গত বছরের ১৪ই অক্টোবর সিন্ডিকেটের জরুরি অধিবেশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদের প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক না হওয়ায় ৩০শে ডিসেম্বর সিন্ডিকেটের ৩২৭তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। এই আদেশনামা ১৩ই ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

জানা যায়, গত বছরের ২৫শে সেপ্টেম্বর ড. হারুনের বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদে পড়ুয়া মালয়েশিয়ান ওই নারী শিক্ষার্থী।

অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, যিনি আমার প্রতিবেশী (৭/এ, বাগানবাড়ি) হিসেবে থাকেন। তিনি আমার বাড়িতে এসে একাধিকবার আমাকে যৌন হয়রানি করেছেন। এছাড়া তিনি প্রয়োজন ছাড়াই আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছেন এবং রাতে অস্বাভাবিক সময়েও আমার বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এতে আমার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব পড়েছে এবং আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি, ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারিনি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণও করতে পারিনি।”

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশের পর ১৪ই অক্টোবর ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮শে সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসের শেষে মালয়েশিয়ার ওই শিক্ষার্থী তার শিক্ষা-কার্যক্রম পরিত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়েন। এর আগে তিনি মালয়েশিয়ান হাইকমিশন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। পরে জানা যায়, তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভীত হয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

Visited 121 times, 1 visit(s) today