নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাইজুল ইসলাম (৬০) কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ—কারাবন্দি অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
রাইজুল ইসলাম বুধবার রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যাওয়ার রাতে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ রাইজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত রাইজুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, কারাগারে মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দেওয়ায় অবস্থার অবনতি ঘটে। গত ৫ এপ্রিল তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে ৯ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান।
রাইজুল ইসলামের এই মৃত্যু ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন। তিনি বলেন,
“এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। অবৈধ ইউনুস সরকারের ‘আওয়ামী লীগ নিধন’ অভিযানের অংশ হিসেবে বিনা অপরাধে জেলহাজতে হত্যা করা হয়েছে রাইজুল ইসলামকে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার করতে হবে।”
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম আলী জানান,
“অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাইজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি মারা যান। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।”
কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে
