নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভারত থেকে স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা এবং বুড়িমারি স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সমুদ্রপথে বা বিকল্প চ্যানেলের মাধ্যমে সুতা আমদানি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
এনবিআরের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিটিএমএ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সুতা শিল্পের সুরক্ষা এবং গার্মেন্ট শিল্পে দেশীয় সুতার ব্যবহার বাড়াতে স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল। গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনও এনবিআরকে স্থলবন্দরের মাধ্যমে গার্মেন্ট খাতের জন্য সুতা আমদানি বন্ধের সুপারিশ করেছিল।
বিটিএমএ জানায়, ভারতের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সুতা কলকাতায় গুদামজাত করার পর স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আনা হতো। এই সুতার দাম দেশীয় সুতার তুলনায় অনেক কম, যা স্থানীয় টেক্সটাইল কারখানাগুলোর জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “স্থলবন্দরে পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় ভুল ঘোষণার সুযোগ নিয়ে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা সুবিধা নিচ্ছিল। এতে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।” তিনি আরও জানান, ভারত থেকে আমদানি করা সুতার দাম চীন, তুরস্ক বা উজবেকিস্তানের সুতার তুলনায় অনেক কম, যা দেশীয় শিল্পের জন্য হুমকি।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তে গার্মেন্ট রপ্তানিকারকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন,
“এই সিদ্ধান্ত গার্মেন্ট রপ্তানিকারকদের জন্য আত্মঘাতী হবে। আমরা ভারত থেকে সাশ্রয়ী দামে সুতা আমদানি করি, যা আমাদের রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখে।”
তিনি জানান,
বাংলাদেশে ৩০ সিঙ্গেল সুতার দাম প্রতি কেজি ৩.৪০ ডলার, যেখানে ভারতে এটি ২.৯০ ডলার এবং ভিয়েতনামে ২.৯৬ ডলার।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বিকেএমইএ আগেই স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছিল। বিটিএমএ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ১২.৫০ লাখ মেট্রিক টন সুতা আমদানি করেছে, যার ৯৫ শতাংশই ভারত থেকে এসেছে।
এদিকে, স্থানীয় স্পিনিং মিল মালিকরা জানান, গ্যাস ও ডলার সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শ্রম অস্থিরতার কারণে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কমে গেছে। অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে, এবং বাকিগুলো অর্ধেক ক্ষমতায় চলছে। তারা আশা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা দেশীয় সুতা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করবে। তবে গার্মেন্ট খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
