সীমান্তে নেই মিলনমেলা, নববর্ষেও স্বজনদের দেখা মিললো না

সীমান্তে নেই মিলনমেলা, নববর্ষেও স্বজনদের দেখা মিললো না
শেয়ার করুন

 নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ঃ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেও সীমান্তে স্বজনদের সঙ্গে মিলনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলো না। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে সীমান্তের দুই পাশের মানুষের মধ্যে যে মিলনমেলা হতো, তা এবারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উভয় দেশের প্রশাসন। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে, বিশেষ করে দিনাজপুরের হিলি, নওগাঁর পত্নীতলা, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এবং সিলেটের তামাবিল সীমান্তে প্রতি বছর বাংলা নববর্ষে সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে একটি আবেগঘন মিলনমেলার আয়োজন করা হতো। এই দিনটিতে তারা কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে একে অপরের সঙ্গে দেখা করতেন, হাসি-কান্না আর স্মৃতি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কাটাতেন কিছু মুহূর্ত। কিন্তু গত কয়েক বছরের মতো এবারও নিরাপত্তা ও সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই মিলনমেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং কাঁটাতারের কাছাকাছি যাওয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। হিলি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, “প্রতি বছর এই দিনে আমার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হতো। কিন্তু এবারও সেই সুযোগ হলো না। আমরা শুধু দূর থেকে হাত নাড়তে পারি, কথা বলতে পারি না।”

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিজিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “সীমান্তে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্প্রতি উভয় দেশের মধ্যে কিছু কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এই মিলনমেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা দুঃখিত, কিন্তু এটি জনগণের নিরাপত্তার জন্যই করা হয়েছে।”

এদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বাংলা নববর্ষের এই মিলনমেলা কেবল স্বজনদের মিলনের মাধ্যমই নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনকে শক্তিশালী করত। পত্নীতলার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, “আমরা শুধু আমাদের পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে চাই। এতে কী সমস্যা হতে পারে? সরকারের উচিত এই বিষয়ে নমনীয় হওয়া।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু জটিলতা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্তের দুই পাশের মানুষের আবেগ ও সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এই মিলনমেলা আবার চালু করার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্য থেকে। নববর্ষের উৎসবের মধ্যেও স্বজনদের দেখার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মনে হতাশা বিরাজ করছে।

Visited 38 times, 1 visit(s) today