চার মাস পর গুলশানের ফিরোজায় ফিরলেন খালেদা জিয়া, কঠোর নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে বাসভবন

চার মাস পর গুলশানের ফিরোজায় ফিরলেন খালেদা জিয়া, কঠোর নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে বাসভবন
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৬ মে ২০২৫: চার মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নিরাপত্তার কারণে তার সফরসঙ্গী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতাদের ছাড়া বাসভবনে অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে তাকে বহনকারী একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি একটি পৃথক গাড়িতে হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় ও জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তবে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
খালেদা জিয়া গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ৮ জানুয়ারি হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি দ্য লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হন, যেখানে তিনি হৃদরোগ ও লিভার সিরোসিসসহ একাধিক জটিল রোগের চিকিৎসা নেন। ১৭ দিন হাসপাতালে থাকার পর তিনি তারেক রহমানের বাসায় স্থানান্তরিত হন, যেখানে তার চিকিৎসা অব্যাহত থাকে। মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
সোমবার (৫ মে) স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির প্রদত্ত রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তার সঙ্গে ছিলেন দুই পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি, চিকিৎসক দল, এবং মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যসহ মোট ১৩ জন। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা ছিল, যা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ফ্লাইটের জন্য নিরাপদ ছিল।
খালেদা জিয়ার ফিরে আসা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তার সুস্থতা ও দেশে ফিরে আসাকে দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে, তার স্বাস্থ্য এখনো সংকটাপন্ন, এবং চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, “বেগম জিয়ার ফিরে আসা আমাদের জন্য আনন্দের, তবে তার স্বাস্থ্য এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর কারাগারে ছিলেন। ২০২০ সালে সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়, এবং তখন থেকে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেননি। তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া এবং ফিরে আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত জনসমাগম রোধ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তার গাড়িবহরের পথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেলেও, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কারণে বড় ধরনের সমাবেশ এড়ানো হয়।
খালেদা জিয়ার ফিরে আসার এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তার স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Visited 25 times, 1 visit(s) today