নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা, ২৩ মে ২০২৫: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বর্তমান সরকারের মূল দায়িত্ব তিনটি—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বাংলাদেশ প্রাণিবিদ্যা সমিতির ২৪তম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, সংস্কার কমিশনগুলো ইতোমধ্যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, এবং রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং এই সময়সীমার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তবে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। গত দশ মাসে মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান কার্যক্রম হিসেবে শুধু বিজয়সরনীতে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা দেখা গেছে, যেখানে ৫-৬ জন ভলান্টিয়ার “জোরে হর্ন বাজাবেন না” প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন, পলিথিন বন্ধ, কারখানা সরানো, বা খাল উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে, উপদেষ্টা একটি লাল গালিচা সংবর্ধনা যোগে একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন, যা তার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া গায়ের জোরে সেন্টোমার্টিন যাতায়ত বন্ধ করে, সেখানের ইকো সিস্টেম কে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা। আজ ন’মাসেও সেন্টমার্টিনের জীব বৈচিত্রের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি পরিবেশ মন্ত্রানালয় থেকে, এমনকি কেউ খোজও নেয় নি, মানুষ এবং মানুষের উপরে নির্ভরশীল প্রাণী বৈচিত্র কি বেঁচে আছে না বিপন্ন। ১০ মাসে বলার মতো একটি সাফল্য খুজে পাচ্ছেন না সমালোচকরা।
চাপের বিষয়ে প্রশ্নে রিজওয়ানা বলেন, “আমাদের একমাত্র চাপ হচ্ছে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আমাদের বিবেক ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। আমরা ক্ষমতা নিতে আসিনি, দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছি।” তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে যানজট সৃষ্টি না করে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা উচিত। তিনি স্বীকার করেন, দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে ভাবনা চলছে, এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা অর্থহীন হয়ে যাবে।
তিনি সবার সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দায়িত্ব তখনই অর্থবহ হবে, যখন সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।”
