নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে মব সন্ত্রাসের ঘটনা ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দেশের বেশ কিছু শীর্ষ গণমাধ্যমে মব সন্ত্রাসের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। পটিয়া, মুরাদনগর, লালমনিরহাট, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় জনজীবন আতঙ্কে নিমজ্জিত। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চমহলের কিছু কর্মকর্তার নমনীয় মনোভাব নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি মব সন্ত্রাসকে “প্রেশার গ্রুপ” হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি গত ১৫ বছরের নাগরিক স্বাধীনতা হরণ ও সাংবাদিকতার ব্যর্থতার ফল।
তিনি দাবি করেন, এই গ্রুপগুলো জনগণের ক্ষোভের প্রকাশ। তবে, এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই তথাকথিত “প্রেশার গ্রুপ” প্রতিনিয়ত তাদের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করছে, যা কোনোভাবেই ন্যায্যতা পাওয়ার যুক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
কুমিল্লার মুরাদনগরে একটি পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, ফরিদপুরে ব্যবসায়ী এ কে আজাদের বাসভবনে হামলা, এবং পটিয়া ও লালমনিরহাটে নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট তাদের বিবৃতিতে এই ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করেছে।
তারা প্রশ্ন তুলেছে, প্রেস সচিব শফিকুল আলমের “প্রেশার গ্রুপ” এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মব সন্ত্রাসকে গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনার বক্তব্য কি সরকারের পক্ষ থেকে এই সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে?
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই মব সন্ত্রাস শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতিই ঘটাচ্ছে না, বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেও ক্ষুণ্ন করছে। সংবাদমাধ্যমগুলো মব সন্ত্রাসকে জাতীয় জীবনে নতুন আপদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, এই সন্ত্রাস বন্ধ না করা গেলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দাবি করেছেন যে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে মব সন্ত্রাস কমেছে, তবুও ভুক্তভোগীরা বলছেন, পরিস্থিতির উন্নতি তেমন লক্ষণীয় নয়। তিনি ধামরাইয়ে রথযাত্রা উৎসবে বলেন, “মব সন্ত্রাস কি আগে থেকে কমেনি? আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি বলেই কমছে।” কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকারের এই পদক্ষেপ আরও দৃঢ় ও কার্যকর হবে, যাতে মব সন্ত্রাস পুরোপুরি নির্মূল হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তারা সরকারের কাছে মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চমহলের কিছু কর্মকর্তার নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা মনে করেন, মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পরিবর্তে এটিকে গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি অবহেলার ইঙ্গিত বহন করে। জনগণের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত এই সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে।
