রাজশাহীতে ছাত্রদল নেতার মব সন্ত্রাস: গৃহবধূকে নির্যাতন ও ফ্ল্যাটে হামলা-লুটপাট

রাজশাহীতে ছাত্রদল নেতার মব সন্ত্রাস: গৃহবধূকে নির্যাতন ও ফ্ল্যাটে হামলা-লুটপাট
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী নগরীতে একটি ফ্ল্যাটে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটসহ গৃহকর্ত্রীকে নির্যাতন করেছেন এক ছাত্রদল নেতা ও তার লোকজন।

আজ সকালে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন পদ্মা পারিজাত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হাবিবা আক্তার মুক্তা।

লিখিত বক্তব্যে হাবিবা জানান, তিনি পদ্মা পারিজাতের ২ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়ির পাঁচতলার ছয় নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন। গত ৩রা জুলাই দুপুরে তার জামাতার ভাই মাহমুদ হাসান শিশির সঙ্গীসাথী নিয়ে তাদের বাসার সামনে ‘মব’ তৈরি করেন। পরে তারা ফ্ল্যাটে ঢুকে ২ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয় এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। শিশির ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা।

হাবিবার ভাষ্য, এ ঘটনা সরাসরি ডাকাতির শামিল। ঘটনার সময় তিনি একাই বাসায় ছিলেন। দুই ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে শিশির আবার পুলিশ ও স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে বাসায় গিয়ে ‘তল্লাশির নামে নাটক’ করে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পুরো সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে এবং পুলিশের কাছেও রয়েছে।

ঘটনার পেছনে পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ কাজ করছে বলে জানান হাবিবা।

তিনি বলেন, “শিশির দীর্ঘদিন ধরে আমার জামাতা মেহেদী হাসান সিজারকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করে আসছে। আমার মেয়ের শ্বশুর মাহবুব ছিলেন একজন খ্যাতনামা ঠিকাদার। তার মৃত্যুর পর থেকে তার সম্পদ এককভাবে দখলের উদ্দেশ্যেই শিশির বারবার হামলা ও হয়রানির পথ বেছে নিচ্ছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২৯শে জুন সিজারের নিজ বাড়িতেও শিশির ও তার লোকজন হামলা চালায়, যার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে।

হামলার ঘটনায় হাবিবা নগরীর চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পুলিশকে দিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাহমুদ হাসান শিশির বলেন, “তল্লাশির সময় নেতাকর্মী, পুলিশ, এমনকি সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। আমি কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দিইনি। বরং আমার বড় ভাইয়ের শাশুড়ি আমাকে গালিগালাজ করেন।”

তার দাবি, তার ভাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, এ কারণেই তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, “বাড়িতে ঢুকে লুটপাটের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হাবিবা আক্তার মাহমুদ মামলায় হাসান শিশিরসহ আরও কয়েকজনকে নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাত ৮–১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, বুধবার দুপুরে পদ্মা পারিজাত এলাকার একটি ৮ তলা ভবন ঘেরাও করেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, সেখানে নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল মাসুদ রনি অবস্থান করছেন। যদিও এলাকাবাসীর মতে, তিনি অনেক আগেই বিদেশে গেছেন।

ঘটনার সময় রনি যুবদল নেতা ফয়সাল সরকারকে ফোনে বলেন, “আমি অনেক দূরে। এত কষ্ট করে আসার দরকার নেই। সময় হলে নিজেই ফিরে আসব।”

Visited 17 times, 1 visit(s) today