নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে ৯০-এর দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরীকে গত রাতে বাড়ি থেকে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করল পুলিশের সাইবার বিভাগ।
সাবেক তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা কামাল পাশা চৌধুরী ছাড়া আরও ১০ জন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়।
সাইবার বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, কামাল পাশা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিলেন। তার ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতো।
এদিকে কামাল পাশার পরিবারের বক্তব্য, তিনি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করতেন, তবে কখনও রাষ্ট্রবিরোধী কিছু করেননি।
তার এই গ্রেপ্তারের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
৯০-এর দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কামাল পাশা চৌধুরী ছিলেন একজন নেতৃস্থানীয় ছাত্রনেতা। তার সাহসী ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে চিত্রশিল্পী হিসেবে তার প্রতিবাদী কাজগুলো তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ২০১৩ সালের যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে সৃষ্ট গণজাগরণ মঞ্চের একজন অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। তার গ্রেপ্তারের সংবাদে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা কদমতলি থানা এলাকার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর সুলতানা আহমেদ লিপি (৪৬), আওয়ামী লীগের এমপির এপিএস শাহ মুহাম্মদ সবুর হোসেন (৪৮), কৃষক লীগের গাইবান্ধার নেতা শাহ বিপুল খন্দকার ওরফে বদি (৪০), চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী (৬৫), ছাত্রলীগ নেতা মো. সোহাগ মিয়া ওরফে মির্জা (৩৩), বারনটেক ইউনিট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মতলব মুন্সী (৫৫), কুমিল্লার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিন সরকার (৫৮), বগুড়ার যুবলীগ নেতা মো. আইয়ুব আলী তরফদার (৪৭), বংশাল যুবলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান টিটু (৪৮), তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আমানউল্লা হোসেন অপু (৫৯) এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম (৩৮)।
পুলিশ জানায়, রোববার কদমতলি এলাকা থেকে কাউন্সিলর লিপিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ওয়ারী বিভাগ। তার বিরুদ্ধে বৈছা কর্মীদের একাধিক মামলা রয়েছে। একইদিন বিকেলে মোহাম্মদপুর থেকে শাহ মুহাম্মদ সবুর হোসেন ও বিপুল খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি তেজগাঁও বিভাগ।
সাইবার বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার কামাল পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি ফেসবুকে সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহাগ মিয়াকে; পল্লবী থেকে মতলব মুন্সীকে— যিনি দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
রোববার রাতে বংশাল এলাকা থেকে সাইদুর রহমান টিটু, ভাটারা থেকে আরিফুল ইসলাম, দক্ষিণ বেগুনবাড়ি থেকে সৈয়দ আমানউল্লা হোসেন, রমনা থেকে রমিজ উদ্দিন সরকার এবং বগুড়া থেকে আইয়ুব আলী তরফদারকে গ্রেপ্তার করে ডিবির বিভিন্ন ইউনিট।
