❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয় রাজধানীর রমনা থানায় একটি ডায়েরী করেছে তার পরিবার।
আজকের পত্রিকায় কর্মরত ৭১ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লেখেন। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার নির্মোহ বিশ্লেষণ কারো ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন স্বজনরা।
পরিবার জানিয়েছে, গতকাল ২১শে আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে শুক্রবার সকালেও ফেরেননি তিনি। বের হওয়ার পূর্বে তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বাসায় রেখে যান। কারো কাছে কোনো তথ্য না পেয়ে তার ছেলে ঋত সরকার গত রাতে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সেখানে তিনি বলেন, প্রতিদিনের মত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার জন্য রওনা করেন বাবা। কিন্তু এরপর আর বাসায় ফেরেননি। আমরা বাবার বনশ্রীর অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তিনি অফিসে যাননি। আমরা সম্ভাব্য সকল স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু কোথাও পাওয়া না গেলে থানায় এসে সাধারণ ডায়েরির আবেদন করলাম।
রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক বলেন, “আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে উনি ফোনটা বাসায় রেখে গেছেন। ফোনটা সাথে থাকলে হয়তো খুঁজে পেতে সুবিধা হত।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জাগরণ টিভির প্রধান সম্পাদক এফ এম শাহীন আজ শুক্রবার গণমাধ্যমকে পাঠানো বিবৃতিতে ঘটনাটি জানিয়ে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকার ২১শে আগস্ট সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। পরিবার রাতে থানায় জিডি করেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, মাত্র তিনদিন আগে ১৮ই আগস্ট প্রকাশিত তার সর্বশেষ কলাম “বিদ্বেষপরায়ণতার শেষ কোথায়”-এ তিনি ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি নিয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এর পরপরই তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়াকে কোনোভাবেই কাকতালীয় বলা যায় না।
এফ এম শাহীন আরও বলেন, আমরা মনে করি—এটি নিছক একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়; এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিক ও কলামিস্টদের ভয় দেখিয়ে, গুম-খুনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে সরকার বাংলাদেশকে ভয় ও আতঙ্কের রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে।
‘আমরা দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি-একজন সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ করা মানে গোটা জাতির কণ্ঠরোধের প্রচেষ্টা। বিভুরঞ্জন সরকারের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ চলবে’, বলেন তিনি।
একইসাথে এ ঘটনায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ব সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
গণমাধ্যমকে পাঠানো বিবৃতিতে কিছু দাবি তুলে ধরেন তিনি:
- অবিলম্বে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের সন্ধান দিতে হবে এবং তাকে অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে
- সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও গুমের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে
বিভুরঞ্জনের কর্মস্থল আজকের পত্রিকা থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৬ই অগাস্ট থেকে সাত দিনের ছুটিতে রয়েছেন তিনি।
