সংবিধান অক্ষুন্ন রেখে অ্যাপে ভোট চায় নেপালের জেন-জি, জানালো: “নেতৃত্বের যোগ্যতা আমাদের নেই, পরিপক্কতায় সময় লাগবে”

সংবিধান অক্ষুন্ন রেখে অ্যাপে ভোট চায় নেপালের জেন-জি, জানালো: “নেতৃত্বের যোগ্যতা আমাদের নেই, পরিপক্কতায় সময় লাগবে”
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

নেপালের জেনারেশন জি (জেন-জি) আন্দোলনকারীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলিকে পদত্যাগে বাধ্য করলেও, তারা নিজেরা এখনো দেশের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন বলে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। “নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা আমাদের নেই, পরিপক্ক হতে সময় লাগবে” – এই উক্তি জেন-জি নেতা দিওয়াকর ডাঙ্গালের, যা দেশের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় নির্দেশ করছে।

বিক্ষোভের ফলে ৩০-এরও বেশি মানুষ নিহত, হাজারো আহত এবং দেশে কারফিউ জারি হয়েছে, কিন্তু যুবকরা এখন ডিসকর্ড অ্যাপের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন করে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে।

জেন-জি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান দিওয়াকর ডাঙ্গাল গতকাল কাঠমান্ডুর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য এখনো পরিপক্ক নই। এর জন্য সময় লাগবে।”

তিনি অভিজ্ঞতার অভাব এবং কূটনীতি-প্রশাসনিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যে যুবকরা দুর্নীতি, সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক অবনতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে, তারা এখনো দেশ চালানোর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নন।

“আমরা পুরনো নেতাদের দ্বারা বিভক্ত হওয়ার চেষ্টাকে প্রতিহত করব, কিন্তু নেতৃত্বের জন্য আমাদের আরও প্রস্তুতি দরকার,” ডাঙ্গাল যোগ করেন।

তিনি সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি তুললেও সংবিধান বাতিলের বিরোধিতা করেন এবং রক্তপাতের দায় পুরনো রাজনীতিবিদদের উপর চাপিয়ে দেন। এই বক্তব্যের পটভূমিতে জেন-জিরা ডিসকর্ড প্ল্যাটফর্মে ভোটের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে নির্বাচিত করেছে।

৭,৭১৩ ভোটের মধ্যে কার্কি ৫০% এর বেশি পেয়ে শীর্ষে উঠেছেন, যা বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কার্কির দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি এবং স্বাধীনতার খ্যাতি যুবকদের মধ্যে জনপ্রিয়, যদিও কিছু সমালোচক তার পুরনো শাসনের সাথে যোগসূত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

কাঠমান্ডুর স্বাধীন মেয়র এবং র‍্যাপার ব্যালেন শাহ কার্কিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “এটি যুবকদের আশীর্বাদের মতো।”

জেন-জি ছাত্র নেতা শাশওট লামিচ্ছানে র‍্যাবি লামিচ্ছানের মতো বিতর্কিত নাম থেকে দূরে সরে কার্কির পক্ষে র‍্যালি করেছেন। অন্যান্য জেন-জি নেতাদের বক্তব্যও এই পরিপক্কতার থিমকে প্রতিফলিত করছে।

একজন যুবক অ্যাকটিভিস্ট বলেন, “আমরা ২৮ বছর বয়সী সবচেয়ে বয়স্ক জেন-জি, কিন্তু কূটনীতি বা প্রশাসনের অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। আমরা পথ দেখাতে পারি, কিন্তু দেশ চালাতে নয়।”

আরেকজন নেপালি যুবক ট্রাইডেভ গুরুং সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রমী এবং দায়িত্বশীল, কিন্তু সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হওয়ার পরিবর্তে সহায়ক হয়ে থাকি।”

এই বক্তব্যগুলো জেন-জির মধ্যে একটি স্বীকৃতি দেখায় যে, তারা পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হলেও, নেতৃত্বের জন্য আরও সময় এবং প্রশিক্ষণ দরকার।

নেপালের জেন-জি আন্দোলন দুর্নীতি, সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক অসমতার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানের পর রাস্তায় রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পর সেনাবাহিনী কারফিউ জারি করেছে এবং রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের আলোচনা শুরু করেছেন।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই আন্দোলনকে ‘প্রজন্মান্তরিক বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছে, কিন্তু যুবকদের নিজস্ব স্বীকৃতি শুনলে মনে হয়, এটি এখনো পথের শুরু।

ড. ডেভিড থাপা, একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বলেন, “জেন-জিরা জিওপলিটিক্যাল চ্যালেঞ্জ বুঝতে শিখছে, কিন্তু পপুলিস্ট নেতাদের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি আছে। তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সঠিক নেতা বাছাই করতে হবে।”

এই আন্দোলন নেপালের ভবিষ্যতকে নতুন দিক দিতে পারে, কিন্তু যুবকদের পরিপক্কতার এই স্বীকারোক্তি দেখায় যে, পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসবে।

Visited 12 times, 1 visit(s) today