নিজস্ব প্রতিবেদক
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের সন্তানেরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন এই বিতর্কিত পরিবারের উত্তরসূরিরা।
বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলই দাবি করছে, তারা ‘যোগ্য ও জনপ্রিয়’ প্রার্থী দিচ্ছে।
কিন্তু এই মনোনয়নপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, একাত্তরের দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরিদের প্রার্থী করা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতির পুনরুত্থান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা “রাজনৈতিক উত্তরাধিকার” প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, যা যুদ্ধাপরাধের দায়বদ্ধতার পরিপন্থী।
জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা রাজাকার মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ঢাকা-১৪ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। ২০১৬ সালে তিনি গুম নাটক করে আত্মগোপনে যান এবং গত বছর সরকারের পরিবর্তনের পর ফিরে আসেন।
একইভাবে, রাজাকার মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমান মোমেন প্রার্থী হচ্ছেন পাবনা-১ আসনে, যা নিজামীর পুরোনো রাজনৈতিক ঘাঁটি।
নাজিবুর বলেছিলেন দেশে এখনো “সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই”—তবে তার এই বক্তব্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তার বাবার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ ছিল।
পিরোজপুরে রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই পুত্র—মাসুদ ও শামীম সাঈদী দুই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। মাসুদ সাঈদী আগে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বাবার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আমাদের ভোটে প্রতিফলিত হবে।”
চট্টগ্রাম-৭ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক নেতা ও দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম বিন কাদের চৌধুরী। একইভাবে, জয়পুরহাটে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির আরেক যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতা রাজাকার আবদুল আলীমের ছেলে ফয়সাল আলিম।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জোবায়েরের দাবি, “বাবা এমপি ছিলেন বলে নয়, তারা যোগ্য বলেই মনোনয়ন পেয়েছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমিনুল হক বলেন, বিএনপি-জামায়াতের এই মনোনয়ন কৌশল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী একটি প্রতীকী বার্তা বহন করছে।
