প্রধান উপদেষ্টার কাছে যেতে চাওয়ায় শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠি-সাউন্ড গ্রেনেড

প্রধান উপদেষ্টার কাছে যেতে চাওয়ায় শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠি-সাউন্ড গ্রেনেড
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার শাহবাগে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদযাত্রা ঠেকাতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশি বাধায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন গ্রেড উন্নয়নসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তাঁদের দাবিগুলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান।

সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার শিক্ষক সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জড়ো হয়ে বিকেলে পদযাত্রা শুরু করেন। পুলিশ গণগ্রন্থাগারের সামনে ব্যারিকেড দিলে শিক্ষকেরা তা ভাঙার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহৃত হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ অভিযোগ করেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে। অর্ধশতাধিক শিক্ষক আহত, দুজনকে আটক করা হয়েছে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক শিক্ষক সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী শিক্ষকরাও রয়েছেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ মনসুর বলেন, “শিক্ষকেরা ব্যারিকেড ভেঙে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। দুই-একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ এক ব্যাখ্যায় জানায়, যমুনা ও তার আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও আন্দোলনকারীরা নির্দেশনা অমান্য করে অগ্রসর হন। এ সময় তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে।

এর আগে গত অক্টোবরেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষকরা শনিবার রাত পর্যন্ত শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।

Visited 6 times, 1 visit(s) today