নিজস্ব প্রতিবেদক
বহু সমালোচনার মধ্যেই দেশবাসীর কাছে গোপন করে ১৭ই নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের বিষয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ইউনূস সরকার। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ–পরিচালনা এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিতে চুক্তি করা হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট মহলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠন তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশব্যাপী এ নিয়ে প্রতিবাদ ওঠেছে। কিন্তু ইউনূস সরকার এ নিয়ে রা করছে না।
ড. ইউনূস বিদেশিদের স্বার্থ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করার মিশন নিয়েই কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুধীজন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শর্তাবলি প্রকাশ্যে দেখানো হলেও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, কোন কোন তথ্য গোপন থাকবে এবং প্রকৃত লাভক্ষতির হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। যা নিয়ে উঠছে অস্বচ্ছতার অভিযোগ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
দুই বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেবার পর এবার চট্টগ্রাম বন্দরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউনূস সরকার। ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপিওয়াল্ডের সঙ্গে চুক্তির লক্ষ্যে ৭ সদস্যের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব বন্দর কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছে।
এতে স্পষ্ট হয়েছে দুই বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পর এবার এনসিটিতেও বিদেশি অপারেটর নিয়োগের পথে এগোচ্ছে ইউনূস সরকার, যা দেশের কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্দর রক্ষা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে। তাদের অভিযোগ কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন বন্দর স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে দেওয়া হলে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও ৩০ বছরের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস। প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ২৫০ কোটি টাকা ‘সাইনিং মানি’।
অপরদিকে পানগাঁও টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএ, যারা দিয়েছে ১৮ কোটি টাকা সাইনিং মানি। ড. ইউনূসের পরামর্শেই এসব হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠন বলছে কৌশলগত সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। ভবিষ্যতে শ্রমিকদের চাকরি সংকট ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে এতে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন যেখানে দেশীয় সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক মানের জনবল তৈরি করা সম্ভব, সেখানে একের পর এক টার্মিনাল বিদেশির হাতে তুলে দেওয়ার তাড়াহুড়োর কারণ কী? এবং কেন পুরো চুক্তি এখনো জনগণের সামনে প্রকাশ করা হচ্ছে না?
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণে বিদেশি অপারেটরের উপস্থিতি বাড়ায় সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শ্রমিকস্বার্থ সবকিছুর ওপরই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এ নিয়ে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে দেশব্যাপী।
