নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. দেবপ্রিয় বলেন, সরকার সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতিতে অগ্রসর হতে পারেনি ইউনূস সরকার। সংস্কারে রিলে রেসের মতো দৌড়ানোর কথা থাকলেও সরকারের হাতে থাকা লাঠি এখন আর নেই।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি খুব সামান্য। সংস্কারে ধীর গতি থাকলেও সরকার মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের চুক্তি করেছে তড়িগড়ি করে। এসব চুক্তি আবার প্রকাশযোগ্যও নয়।
এমন চুক্তি স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করে এবং বড় সিদ্ধান্তে অংশীজনের অংশগ্রহণ জরুরি। সরকার জনগণকে না জানিয়ে এমন চুক্তি করতে পারেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের পাহাড়, প্রভিশনের ঘাটতি এবং তারল্য সমস্যাসহ বহুদিন চাপা থাকা অসংখ্য অসুস্থতা এখন সামনে উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক। সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ও সাহিত্যিক ফারুক হোসেন।
ব্যাংক খাতের বর্তমান দুরবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ ও প্রশাসক নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও খাতে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। তিনি দাবি করেন, আগের সরকারকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করেছে আমলাতন্ত্র, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনও ছিলেন।
ড. দেবপ্রিয় উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছিল স্বচ্ছতা এড়ানোর উদ্দেশ্যে— তারা চায়নি সাংবাদিকরা সত্য জানুক।
