পোপ লিও চতুর্দশ মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার কোনো মুসলিম উপাসনালয়ে প্রবেশ করলেন। তিনি শুক্রবার ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত সুলতান আহমেদ মসজিদ—যা ‘ব্লু মসজিদ’ নামে বেশি পরিচিত—পরিদর্শন করেন।
মসজিদে প্রবেশের সময় তাকে নত হয়ে সম্মান জানাতে দেখা যায়। তবে জানা গেছে, তার দুই পূর্বসূরির মতো তিনি সেখানে প্রার্থনা করেননি। ভ্যাটিকান এক বিবৃতিতে জানায়, পোপ “চিন্তা ও শ্রবণের মানসিকতা নিয়ে, স্থানটির মর্যাদা এবং সেখানে প্রার্থনায় সমবেত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাসের প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে” এই সফর সম্পন্ন করেছেন।
চার দিনের তুরস্ক সফরে রয়েছেন পোপ লিও; এখান থেকে তিনি লেবাননেও যাবেন।
নীল মসজিদ পরিদর্শনের পর পোপকে ইস্তাম্বুলের সেন্ট জর্জ ক্যাথেড্রালে স্বাগত জানান পূর্ব অর্থোডক্স চার্চের প্রধান, প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ। স্থানীয় মুসলিম নেতাদের সঙ্গে তিনি মসজিদে ঘুরে দেখেন বিভিন্ন ঐতিহাসিক অংশ।
সুলতান আহমেদ প্রথমের নামানুসারে পরিচিত এই মসজিদটি নির্মিত হয় ১৬০৩ থেকে ১৬১৭ সালের মধ্যে, অটোমান সাম্রাজ্যের শীর্ষ স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে। নীল ও ফিরোজা রঙের হাজারো সিরামিক টাইলসে নির্মিত এর অভ্যন্তর সাজসজ্জা প্রতি বছর লক্ষাধিক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে।
পোপ ফ্রান্সিস ২০১৪ সালে এবং পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ ২০০৬ সালে এখানে প্রার্থনা করেছিলেন। আর প্রথম কোনো পোপ হিসেবে ২০০১ সালে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে প্রবেশ করে ইতিহাস গড়েন জন পল দ্বিতীয়।
তুরস্ক ও লেবাননে পোপের এই সফরটি মূলত পূর্বনির্ধারিত ছিল প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের উদ্যোগে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পোপ লিও “সম্প্রীতি ও সেতুবন্ধন নির্মাণের” বার্তাকে সামনে রেখে সফরটি নিজের করে নেন।
সফরের শুরুতে তিনি বিশ্বব্যাপী বাড়তে থাকা সংঘাতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে বলেন, “মানবজাতির ভবিষ্যৎ আজ ঝুঁকির মধ্যে। আমাদের বৈশ্বিক সংঘাতের মাত্রা বাড়তে দেওয়া উচিত নয়।”
লেবাননে—যেখানে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী খ্রিস্টান—তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তরুণদের কথা শুনবেন বলে জানা গেছে।
সফরের শেষ দিনে তিনি বৈরুতের বন্দরের ২০২০ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণের স্থানে খোলা আকাশের নিচে মিসা পরিচালনা করবেন। সেই ঘটনায় নিহত ২০০–র বেশি মানুষ এবং আহত সাত হাজারের প্রতি তিনি প্রার্থনা নিবেদন করবেন।
