ভারতের রাষ্ট্রীয় অতিথি শেখ হাসিনা ‘নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিবেন’, স্পষ্ট বার্তা জয়শঙ্কর-এর

ভারতের রাষ্ট্রীয় অতিথি শেখ হাসিনা ‘নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিবেন’, স্পষ্ট বার্তা জয়শঙ্কর-এর
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উগ্রবাদী, বিদেশী শক্তি ও সেনা সমর্থিত ছাত্র-জনতার ‘পরিকল্পিত গণঅভ্যুত্থানের’ মুখে ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে থাকবেন নাকি বাংলাদেশে আসবেন- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত একমাত্র শেখ হাসিনাই নিবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

দিল্লিতে ‘এইচটি লিডারশিপ সামিট’-এ এনডিটিভির প্রধান সম্পাদক রাহুল কানওয়ালের প্রশ্নের জবাবে ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তে কথা তিনি জানিয়েছেন। এসময় জয়শঙ্কর বলেন,

“তিনি বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন। সেই পরিস্থিতিই ভবিষ্যতে তাঁর করণীয়কে প্রভাবিত করবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে।”

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আর তিনি কোন পথে এগোবেন সেটি তিনি নিজেই ঠিক করবেন।

গত বছরের আগস্টে ১৫ বছরের শাসন শেষে ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে মৌলবাদী-উগ্রবাদী ও বিরোধীদলের সাথে বিদেশী শক্তির সমন্বিত ষড়যন্ত্রে সৃষ্ট সহিংসতার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় প্রোটকলে ভারত যান হাসিনা। সেই সহিংসতায় শতাধিক মানুষের হত্যার শিকার হয় ও হাজারো মানুষ আহত হয়। পরে গত মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সৃষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদন্ডের মতো বিতর্কিত রায় দেয়, গত বছরের ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে।

হাসিনা কি চাইলে ভারতে ‘যতদিন খুশি’ থাকতে পারবেন?—এমন প্রশ্নে জয়শঙ্কর বলেন, সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।

ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশে ভারত একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দেখতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা শুনেছি—যারা এখন ক্ষমতায়, তাদের অভিযোগ ছিল অতীতের নির্বাচন নিয়ে। যদি সমস্যাটা নির্বাচন হয়, তাহলে প্রথম কাজই হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করা।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাবক হিসাবে কাজ করবে। “আমরা চাই বাংলাদেশ ভালো থাকুক,” বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

“গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা সবসময়ই চাই জনগণের মতামত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হোক। আমি বিশ্বাস করি, যে শক্তিই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা সম্পর্কের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত অবস্থান নেবে।”

Visited 6 times, 1 visit(s) today