আবারও পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে নিম্নমানের কাগজে! বাধার মুখে এনসিটিবির দায়িত্বশীলরা

আবারও পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে নিম্নমানের কাগজে! বাধার মুখে এনসিটিবির দায়িত্বশীলরা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারও নিম্নমানের কাগজে ছাপা হচ্ছে পাঠ্যবই।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলমান থাকলেও আবারও নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রিন্টিং প্রেস এই কাজ করছে। অগ্রণী, কর্ণফুলী, কচুয়া ও আনোয়ারা প্রিন্টিং প্রেস মানদণ্ড অনুযায়ী জিএসএম ও ব্রাইটনেস নিশ্চিত না করে রিসাইকলড কাগজে বই ছাপতে দেখা যাচ্ছে। এতে মান নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত এনসিটিবি (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) ও ইন্সপেকশন এজেন্ট কর্মকর্তারা নানাভাবে বাধার মুখে পড়ছেন এবং কখনো কখনো ভয়ভীতির শিকারও হচ্ছে।

প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির জন্য মোট প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপা হচ্ছে—এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পেয়েছে অগ্রণী, কর্ণফুলীসহ চারটি প্রেস। তবে এই প্রেসগুলোর দুটি চুক্তি করতে বিলম্ব করায় সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপা মার্চ পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবেশ থাকবে না—এ ধারণা থেকেই নিম্নমানের বই সরবরাহের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মান অনুযায়ী প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির বইয়ে ৮০ জিএসএম, মাধ্যমিকে ৭০ জিএসএম কাগজের পাশাপাশি ৮৫ ব্রাইটনেস থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী কিছু প্রেস ৬৫–৭০ জিএসএম পর্যন্ত কাগজ ব্যবহার করছে। বাজারদর যেখানে প্রতি টন প্রিমিয়াম কাগজের দাম প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রেসগুলো কম দামে রিসাইকেলড কাগজ কিনে বই ছাপছে।

ইবতেদায়ি বইয়ের বিভিন্ন লটে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের ঘটনা মাঠপর্যায়ে ধরা পড়েছে। এমনকি এক কর্মকর্তা নিম্নমানের স্যাম্পল সংগ্রহের পর নোয়াখালী এলাকায় ফেরার পথে তার ব্যাগ ছিনতাই হয়ে যায়—যেখানে স্যাম্পলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। এ ঘটনার পর অনেক কর্মকর্তা ওই প্রেসগুলোর পরিদর্শনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

প্রেসগুলোর মালিকেরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন—তারা নিয়ম মেনে এবং নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাগজ ব্যবহার করছেন। তাদের দাবি, টেস্ট রিপোর্টেও কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের কাগজে ছাপা বই শিক্ষার্থীদের পক্ষে পুরো বছর টিকিয়ে রাখা কঠিন। ৬০ জিএসএম কাগজ কয়েক মাসেই ছিঁড়ে যায়। ব্রাইটনেস কম হলে চোখে চাপ পড়ার ঝুঁকিও থাকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের বছরগুলোতেও একই প্রেসগুলো নিম্নমানের বই সরবরাহ করেছিল, কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়া মাঝপথে থেমে যাওয়ায় তারা দায় এড়াতে পেরেছে। এবারও একই প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি জানিয়েছেন, কয়েকটি মিল নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ করছে এবং কিছু প্রেস সেই কাগজেই বই ছাপছে। মান রক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবিকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Visited 14 times, 1 visit(s) today