এনসিপি-জামায়াত জোট: উগ্র ডানপন্থায় আস্থা তরুণ নেতৃত্বের, বহির্বিশ্বে তীব্র সমালোচনা

এনসিপি-জামায়াত জোট: উগ্র ডানপন্থায় আস্থা তরুণ নেতৃত্বের, বহির্বিশ্বে তীব্র সমালোচনা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের জুলাই বিক্ষোভে জড়িত তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। এই জোট-বন্ধনের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং একে বিতর্কিত ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াতের মত উগ্রবাদী দলের প্রতি তরুণ নেতৃত্বের আস্থায় হতবাক সচেতন মহল।

যে তরুণ নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া একসময় বাহবা দিয়েছিল—নতুন ধারার রাজনীতির প্রতীক হিসেবে ব্যাপক কভারেজ দিয়েছিল—তাদের সেই সকল মনোযোগ ও আকর্ষণ এখন এই জোটের কারণে উগ্র ইসলামপন্থী দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া

২০২৪ সালে নাহিদ ইসলামকে টাইম ম্যাগাজিনের ‘টাইম ১০০ নেক্সট’ লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করে উদীয়মান নেতা হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছিল। রয়টার্স, বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো মিডিয়া তাদেরকে গণতন্ত্রের নতুন আশার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু এখন সেই ফোকাস সরে গিয়ে জামায়াতের প্রভাব বাড়ার দিকে চলে গেছে।

রয়টার্স লিখেছ, গত বছরের বিদ্রোহের পর থেকে এনসিপি স্বজনপ্রীতি এবং দ্বি-দলীয় আধিপত্যের পরিবর্তে একটি মধ্যপন্থী, সংস্কারবাদী বিকল্প হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছে, কিন্তু নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই তারা রাস্তার শক্তিকে ভোটারদের সমর্থনে রূপান্তরিত করতে লড়াই করেছে এবং নিজেদের তীব্র ডানপন্থী ইসলামী দলগুলোর কাছে সমার্পন করেছে।

ফরাসি মিডিয়া লে মন্ড লিখেছে, জামায়াত এই জোটের মাধ্যমে সরকারে প্রভাব বিস্তার করছে, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা কট্টর গ্রুপগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধের দাবির কথা তুলে ধরেছে।

সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস বলছে, এনসিপি সংস্কারবাদী দল হিসেবে শুরু করলেও নির্বাচনের চাপে এই ‘প্রাগম্যাটিক’ জোটে গেছে, যা জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ইতিহাসকে সামনে এনেছে।

ভারতীয় মিডিয়া যেমন দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে এই জোটকে দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণ বলে বর্ণনা করেছে। তাসনিম জারা, সামান্থা শারমিনের মতো নেত্রীরা পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যান্য সূত্র যেমন নিউজ১৮ এটিকে ছাত্র আন্দোলনের আদর্শের বিশ্বাসঘাতকতা বলে দেখছে।

নাহিদ ইসলাম জোটকে ‘ঐক্যের জন্য প্রয়োজনীয়’ বললেও, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এটি সমালোচিত।

এই জোটের ফলে জুলাই বিপ্লবের তরুণ নায়কদের প্রতি যে আন্তর্জাতিক আস্থা ও আকর্ষণ ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এই পরিবর্তিত ফোকাস দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বের দৃষ্টি আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে।

Visited 25 times, 1 visit(s) today