আয়নাল কারিগর, চট্টগ্রাম ব্যুরো
দেশে ক্ষমতার পালা বদলের সন্ধিক্ষণে ৪৬০টির বেশি থানা ও ফাঁড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়। এসব অস্ত্র চলে গেছে আন্দোলন চলাকালে ১৯টি কারাগার ভেঙে বের করে আনা দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে। যার বড় অংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরইমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি বিষয়- সন্ত্রাসীদের কাছে দেখা যাচ্ছে অস্ত্র নির্মাণকারী বিভিন্ন দেশের তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে তৈরি বিপুল সংখ্যক অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে গত ১৭ মাসে।
২০২৪ সালের ১১ই আগস্ট একটি নাম্বারপ্লেটহীন গাড়ি (শুধু চেসিস নাম্বার লেখা) থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার করেছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি ছিল এম টুয়েন্টি ফোর (M24) স্নাইপার রাইফেল। এই M24 স্নাইপার ওয়েপন সিস্টেমের (SWS) রেমিংটন মডেল ৭০০ অস্ত্রটি সামরিক সংস্করণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত এই রাইফেলটি দূরবর্তী টার্গেট কিলিংয়ের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অস্ত্র। এই অস্ত্রে ৭.৬২ মি.মি. বুলেট ব্যবহৃত হয়। অস্ত্রটি ২০২১ সাল থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যবহার করছে।
এরপর আর কোনো হালনাগাদ তথ্য মেলেনি। বেমালুম চেপে যাওয়া হয়েছে ভয়ঙ্কর এই মারণাস্ত্র উদ্ধার পর্বটি; যেখানে জুলাই দাঙ্গায় স্নাইপারে মানুষ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন খোদ উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। স্নাইপার রেঞ্জে ঢুকে পড়ার সতর্কবার্তা ফোনে পেয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
গত বছরের ১২ই মার্চ ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তুরাগ নদীর দক্ষিণপাড়ে মাটির স্তূপের ওপর থেকে খাকি রঙের বক্স প্যাকেট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০ রাউন্ড ৭.৬২x৩৯ মি.মি ক্যালিবারের বুলেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বুলেটের গায়ে “BOF18E 7.62X39 mm Ball Ammo” মুদ্রিত রয়েছে। BOF বা বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সমরাস্ত্র, গোলাবারুদসহ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
২০২৪ এর সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের পর থেকে সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বুলেট এবং স্নাইপার রাইফেল, টেলিস্কোপিক রাইফেল, রাইফেলে ব্যবহৃত টেলিস্কোপিক সাইট- ইত্যাদি উদ্ধার হয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ছবিতে দেখা গেছে বরখাস্তকৃত কিছু সেনাসদস্যের ফেসবুক পোস্টে বিভিন্ন সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী, এমনকি অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেলসহ। সেই বরখাস্তকৃত সেনাসদস্যদের আবার আন্দোলনের সমন্বয়কদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গেছে, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের নিয়মিত দেখা যায়।
২০২৪ সালের ২২শে নভেম্বর রাত দেড়টায় টেকনাফের সাবরাং এলাকায় অভিযানে র্যাব-১৫ একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে ৪টি ট্যাংক বিধ্বংসী তাজা ৪০ মিমি রকেট হিট এবং ৪টি ফিন অ্যাসেম্বলি উদ্ধার করে। যদিও এই অস্ত্র উদ্ধারের পর থেকে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি এসবের সাথে কারা জড়িত কিংবা কোথা থেকে এসেছে, এ নিয়েও কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
তবে এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় ঢাকা ট্রিবিউনে। যার প্রেক্ষিতে বিশদ অনুসন্ধান চালায় ট্রু গেজেট নামক একটি সংস্থা। তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংস্থাটি জানায়, এই ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্রটি তৈরি হয়েছে করাচিতে রাষ্ট্রীয় পাকিস্তান মেশিন টুল ফ্যাক্টরিতে (পিএমটিএফ)। প্রযুক্তিটি মূলত ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে উদ্ভাবিত। কক্সবাজারে উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো মূলত পাকিস্তানে তৈরিকৃত। সংস্থাটি মার্কিন এয়ারফোর্স জাদুঘরের বরাতে জানায়, দক্ষিণ এশিয়ায় শুধুমাত্র পাকিস্তানে এই অস্ত্র তৈরি হয়।
টেকনাফে ট্যাংক বিধ্বংসী এই রকেটগুলো উদ্ধারেরর ঘটনার মাত্র ৫ দিন আগে, ১৬ই নভেম্বর (২০২৪), পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ আসে। যাতে শিল্পের কাঁচামাল এবং ভোগ্যপণ্য থাকার কথা থাকলেও কোনো কায়িক পরীক্ষা ছাড়াই পণ্য খালাস করা হয় যথাযথ গোপনীয়তা বজায় রেখেই। কার্গো মেনিফেস্টে দাবি করা হয়েছিল শিল্পখাতের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পণ্য এসেছে।
যদিও বিডি ডাইজেস্ট-এর হাতে আসা তথ্য ও ছবি অনুযায়ী জানা গেছে, পাকিস্তানি জাহাজের দুটি কন্টেইনারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়। একটি কন্টেইনারে লাল রঙের বর্গাকার লেবেলে ‘এক্সপ্লোসিভ’ লেখা ছিল। সেই বিস্ফোরক দ্রব্যের ধরণ টেকনাফে উদ্ধার হওয়া রকেটের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এরমধ্যে ডব্লিউএইচএলইউ-৪২৬১৭৯৪২জি১ নামে একটি কন্টেইনারের ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে লাল বর্গাকৃতি মার্কিংয়ের মধ্যে ‘এক্সপ্লোসিভ (বিস্ফোরক)’ লেখা।

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার খোলার সময় নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা বিস্ফোরক দ্রব্য দেখে এক ঘণ্টার জন্য আটকে রাখলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পণ্য খালাস করা হয়। উল্লেখ্য, কন্টেইনারগুলোর মধ্যে একটি ক্যাম্বোডিয়ান প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত সিসমিক ইমালশন এক্সপ্লোসিভ ছিল, যা বড় মাত্রার স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপজ্জনক দ্রব্য আমদানির জন্য বিশেষ প্রটোকল থাকা সত্ত্বেও এই কন্টেইনারগুলোতে সেই প্রটোকল মানা হয়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত পণ্য খালাস এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৫ সালের ৮ই জানুয়ারি দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাড়িবাথান গ্রামের চরপাড়া মাঠ থেকে একটি এম৩৬ মডেলের আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধার করে ঝিনাইদহ র্যাব-৬। কমান্ডার মেজর নাঈম আহমেদ জানান, চরপাড়া মাঠে একটা গ্রেনেড পড়ে আছে শুনে সেটি উদ্ধারের পর বোম ডিসপোজাল ইউনিট ওই মাঠের ভেতরে তা ধ্বংস করে। তবে গ্রেনেডটি কে বা কারা এখানে রেখে গেছে সেটি জানাতে পারেনি। অভিযানে র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২শে নভেম্বর ফেনীর কদলগাছি রোডস্থ রেলওয়ের পরিত্যক্ত খালি জায়গা থেকে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির (পিওএফ) তৈরি তিন রাউন্ড ৭.৬২ এম.এম বুলেট উদ্ধার হয় স্থানীয়দের সহায়তায়। তারা সেখানে অজ্ঞাত পরিচয় তিনজন ব্যক্তিকে দেখে ধাওয়া দিলে একটি সিগারেটের প্যাকেটে এসব বুলেট এবং একটি ছুরি পাওয়া যায় ঘটানস্থলে। এই বুলেট স্নাইপার রাইফেলে ব্যবহৃত হয়।
মূলত পাকিস্তানি জাহাজে করে কী আসছে, তা সাধারণ মানুষের জানার কোনো উপায় রাখা হয়নি। বিনা তল্লাশিতেই এসব কার্গো খালাস করা হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক। ২০২৪ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর রাজস্ব বিভাগ এক বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, পাকিস্তান থেকে আগত পণ্যে কোন ইন্সপেকশন আবশ্যক না। অর্থাৎ কাস্টমসের কোন পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই পাকিস্তান থেকে আগত জাহাজের পণ্য খালাস করা যাবে।
পড়ুন: পাকিস্তানি পণ্যে ‘ইন্সপেকশন ছাড়’: ইউনূস সরকারের মদদে ঢুকছে অবৈধ দ্রব্য, ধরা পড়ল হেরোইন উৎপাদনের পপি বীজ
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তখনই সতর্ক করেছিলেন, এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়ার সুযোগে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্যও বাংলাদেশে ঢুকে যেতে আর কোন বাধা থাকবে না। যার প্রমাণ মিলেছে গত বছর নভেম্বরের শুরুতে পাকিস্তান থেকে পোল্ট্রি ফিডের নাম করে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছিল প্রায় ২৫ টন পপি সিড (হেরোইন উৎপাদনের জন্য পপি ফুলের বীজ)। এভাবে পাকিস্তান হয়ে দেশে ঢুকছে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও ভয়ঙ্কর পণ্য।
গত ১লা জানুয়ারি মেহেরপুর র্যাবের বিশেষ অভিযানে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাজুডাঙ্গা গ্রামের সোহাগ হোসেন গিট্টু ও মিশন ইসলামের কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হযেছে। গিট্টুর কাছ থেকে আমেরিকার তৈরি একটি বিদেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি ও ১টি ম্যাগাজিন এবং মিশনের কাছ থেকে আফগানিস্তানে তৈরি একটি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি ও ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
গত ২৯শে ডিসেম্বর (২০২৫) সেনাবাহিনীর অভিযানে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া থানাধীন বনগ্রাম বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে সোলাইমান হোসেন এবং মোফাজ্জেল হোসেনকে আটক করে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ থেকে প্রায়শ তথ্য পাওয়া যায় বিদেশি অস্ত্র উদ্ধারের। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, এতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তারা বাংলাদেশে আগে কখনও দেখেননি।
এর আগে, ঢাকায় পাকিস্তানি হাইকমিশনার বলেছেন যে, ইউনূস সরকার পাকিস্তানের প্রতি সম্পর্কন্নয়নের উল্লেখযোগ্য সদিচ্ছা রাখে। দুইপ্রান্তের দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তানের প্রতি বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই ইতিবাচক। অতএব, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাকিস্তান-বাংলাদেশ জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জেইসিকে) ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি।
পাকিস্তান ডিফেন্সের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত এক টুইটে জানা যায় যে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশ আর্টালারির গোলাবারুদ কেনার চুক্তি করেছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি জাহাজ আসার পরে সেই একই টুইটার হ্যান্ডলে থেকে প্রথম জাহাজ বাংলাদেশে ভেড়ায় অভিনন্দন জানানো হয়।
উপমহাদেশে অস্ত্র ও জঙ্গি সরবরাহ করে অন্য রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলার পেছনে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার ইতিহাস অনেক পুরনো। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে পাকিস্তানের সহায়তায় চীন থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র এনে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করার কাজে সহায়তা করা হয়েছিল বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে।
একইসাথে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসার মাধ্যমে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে সশস্ত্র সংঘাত চালানোর পেছনেও পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। তার ভাই মো. শাহ আলী ২০২২ সালে অস্ত্রসহ আটক হয়েছিল উখিয়া থেকে।
জুনুনির মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র সরবরাহ এবং আরসা সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। যা জুনুনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন একাধিকবার ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে। বাংলাদেশ দখলে নিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার ঘোষণাও জুনুনি। যার প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৩ই মে টেকনাফের নয়াপাড়ার মুছনী আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ক্যাম্প কমান্ডার মো. আলী হোসেনকে হত্যা করে ১১টি ভারী অস্ত্র ও প্রায় ৭শ রাউন্ড গুলি লুট করেছিল আরসার জঙ্গিরা।
পাকিস্তান ছাড়াও অস্ত্র চোরাচালানের আরও রুট এবং লেনদেনের চাঞ্চল্যকর উপায়
জানা যায়, মিয়ানমার থেকে নৌপথে ঢুকছে অস্ত্র। জি-৩ ছাড়াও হালকা অস্ত্রের উৎপাদন হয় মিয়ানমারে। ভারত থেকেও আসছে অস্ত্র এবং গুলি। পাকিস্তান থেকে আসছে একে-৪৭ এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, স্পেয়ার পার্টস, ম্যাগাজিনসহ বোমা তৈরির রসদ। মিয়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলারে অস্ত্রের চালান হাতবদলের কাজ করেন রোহিঙ্গারা। উপকূলের যেসব স্থানে কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনীর টহল কম কিংবা বিশেষ বন্দোবস্ত রয়েছে, সেসব ফাঁক-ফোকর দিয়ে দেশে ঢোকে অস্ত্র। একইসাথে ঢুকছে আইস।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার চালান তুলনামূলক কমে গেছে, যার দখল নিয়েছে আইস। তরুণ সমাজে ইয়াবার চেয়ে আইস-এর কদর বাড়ছে হু হু করে। দামে বেশি হলেও মাদক হিসেবে উচ্চমানের, তাই চাহিদা ভালো, পরিবহনও সহজ। বিশেষ করে, মাছ ধরার ট্রলারে জমাট বরফের মাঝে ফেলে রাখলে সহজে চেনা যায় না ভয়ঙ্কর মাদকটি। অস্ত্র চোরাচালান এবং মূল্য পরিশোধের সহজ পন্থা হলো, দেশে আইস বিক্রি করে তার মাধ্যমে নগদ অর্থ হুন্ডি কিংবা তৃতীয় কোনো দেশ থেকে ডলারে পরিশোধের সুযোগ রেখেছে এই সিন্ডিকেটে জড়িত মিয়ানমারের দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন পাহাড় ও জঙ্গলে অস্ত্র আনলোডিং হয়। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে প্রবেশ মুখ নতুন ব্রিজ এলাকা এবং নিকটবর্তী বাকলিয়া এক্সেস রোড এই অস্ত্র-মাদক পরিবহনের একটি শক্ত চ্যানেল। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বিশেষ বন্দোবস্ত রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি এবং জামায়াত-শিবির ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশে। আগে মহেশখালী, সুন্দরবনসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় হাতে তৈরি পাইপগান, এলজি, ডিবি রাইফেল তৈরি হলেও কার্যকারিতা এবং প্রতিপক্ষের সক্ষমতা বিবেচনায় বর্তমানে বিদেশি অস্ত্রের কদর বেশি।








