নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে অডিও বার্তার মাধ্যমে ভাষণ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’, ‘সহিংস’ ও ‘দখলদার’ আখ্যা দিয়ে ড. ইউনূসকে ‘খুনি ফ্যাসিস্ট’, ‘অর্থ পাচারকারী’, ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ এবং ‘জাতীয় শত্রু’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। দেশ একটি বিশাল কারাগার, বধ্যভূমি এবং মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।”
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে তিনি “সতর্কভাবে সাজানো ষড়যন্ত্র” হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন, সেই দিন থেকে গণতন্ত্র নির্বাসনে গেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, লুটতরাজ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও বিদেশি স্বার্থকে এর জন্য দায়ী করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস জাতীয় সম্পদ ও কৌশলগত স্বার্থ বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়ে দেশকে আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। “জাতিকে প্রতারিত করে খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন,” বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে শেখ হাসিনা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘অবৈধ ইউনূস প্রশাসন’কে অপসারণ করা।
২. দৈনন্দিন সহিংসতা বন্ধ করে জননিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা।
৩. ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও অসহায় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান করা।
৪. সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা বন্ধ করা এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা।
৫. গত এক বছরের ঘটনাবলী তদন্তে জাতিসংঘকে একটি “নতুন ও নিরপেক্ষ তদন্ত” পরিচালনা করতে হবে।
ভাষণের শেষে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ‘একমাত্র বৈধ অভিভাবক’ হিসেবে দাবি করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিকে সংবিধান পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ড. ইউনূসকে যেকোনো নির্বাচনী আসনে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।
এই ভাষণ ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটি দলের সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
