পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশে একের পর এক সশস্ত্র ও বোমা হামলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতির বরাতে জানা গেছে, এসব ঘটনায় অন্তত ৩১ জন সাধারণ নাগরিক ও ১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার পর প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে কমপক্ষে ১৪৫ জন হামলাকারী নিহত হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করে একে সমন্বিত অভিযান বলে দাবি করেছে, যদিও তাদের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কুয়েটাসহ প্রদেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে চালানো হামলায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং ব্যস্ত বাজারগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। পাকিস্তানের উপ-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, হামলাকারীরা সাধারণ মানুষের পোশাকে এসে নির্বিচারে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
সহিংসতার সময় নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণ, আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুয়েটার কয়েকটি প্রশাসনিক এলাকা ঘিরে ফেলা হয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও স্থানীয় জনগণ ন্যায্য সুবিধা পায় না। অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তুললেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে আসছে।
দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত বেলুচিস্তান ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে এবং আরব সাগরের গুরুত্বপূর্ণ উপকূল রেখা নিয়ন্ত্রণ করে। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার তুলনায় এখানকার মানুষের সংখ্যা কম হলেও প্রদেশটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
