সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ পুনরায় শুরু করতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া

সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ পুনরায় শুরু করতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
শেয়ার করুন

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই সিদ্ধান্তকে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শীর্ষ মার্কিন ও রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ বজায় রাখা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য জরুরি। এই উদ্যোগ ভুল বোঝাবুঝি কমাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা এড়াতে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বহু বছর ধরে সংকট ও দ্বন্দ্বের মধ্যেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগের কিছু চ্যানেল খোলা ছিল, তবে ২০২১ সালে—রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের ঠিক আগে—এই যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ন্যাটো আকাশসীমায় রুশ ড্রোন ও যুদ্ধবিমান প্রবেশ কিংবা সিরিয়া ও কৃষ্ণসাগরে মার্কিন ড্রোন ঘিরে উত্তেজনার মতো ঘটনা ঘটেছে।

আবুধাবির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ইউরোপে শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচের সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ সামরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নতুন সমঝোতার ফলে আবারও নিয়মিতভাবে শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হবে।

এই ঘোষণার পাশাপাশি এমন খবরও এসেছে যে, দুই দেশ একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত রাখার কোনো আইনি কাঠামো থাকবে না—যা গত অর্ধশতাব্দীতে প্রথমবারের মতো ঘটতে পারে।

রাশিয়া জানিয়েছে, তারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক সাড়া দিলে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুরোনো চুক্তির বদলে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী নতুন চুক্তি নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়া ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি—উভয়ই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Visited 5 times, 1 visit(s) today