❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের জেরে দেশের নারী সংগঠন, অধিকারকর্মী ও শ্রমিক নেত্রীরা তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের ‘আধুনিকতার নামে পতিতাবৃত্তির একটি রূপ’ বলে উল্লেখ করে পোস্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পরে ডিলিট করা হয়। জামায়াত দাবি করেছে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, কিন্তু এ নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১টি নারী ও অধিকারকর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্মারকলিপি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে তারা বলেছেন, এই বক্তব্য নারীর শ্রম, মর্যাদা ও সামাজিক ভূমিকাকে অস্বীকার করে, যা সংবিধানস্বীকৃত নারী-পুরুষ সমতা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের বিভিন্ন বক্তব্য নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে সমালোচিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
- তিনি জামায়াতে নারীরা আমির (সর্বোচ্চ নেতা) হতে পারেন না বলে ধর্মীয় যুক্তি দিয়েছেন, কারণ পুরুষ-নারীর সৃষ্টিগত ভিন্নতা রয়েছে।
- নির্বাচনী ইশতেহার ও বক্তৃতায় কর্মজীবী নারীদের (বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিক) কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে তারা পরিবার ও সন্তান লালন-পালনে বেশি সময় দিতে পারেন। এতে সরকার ৩ ঘণ্টার বেতন ভর্তুকি দেবে বলে বলা হয়েছে, কিন্তু সমালোচকরা এটাকে নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে ঘরমুখী করার চেষ্টা বলে দেখছেন।
- গার্মেন্টস শিল্পে নারীদের অবদানকে স্বীকার করলেও, আধুনিকতার নামে নারীদের বাইরে বের করে আনাকে ‘নৈতিক অধঃপতনের’ একটি রূপ বলে উল্লেখ করেছেন।
এসব বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও নারী সংগঠনের ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বিএনপি ও অন্যান্য দলের নারী সংগঠনও প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, জামায়াতের এ ধরনের বক্তব্য নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, গার্মেন্টস শিল্পের (যেখানে ৭০-৮০% কর্মী নারী) অগ্রগতি এবং দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলটির নারী শাখা কর্মীরা মিছিল করে প্রার্থীদের সমর্থন দিচ্ছে। তবে নারী সংগঠনগুলো বলছেন, এসব বক্তব্য নারীদের প্রতি গভীর পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের প্রতিফলন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন প্রার্থীদের অযোগ্যতা প্রমাণ করে।
এ ঘটনা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি) আগে নারী ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
