মার্কিন রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে
গাড়ি, বিমান, এলএনজি, কৃষি পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণে শিল্প ও কৃষি পণ্য আমদানি করতে হবে। চুক্তির ফলে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল শুল্ক ২০% থেকে কমিয়ে ১৯% করা হয়েছে এবং কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য (যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি) শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে। কিন্তু এর বিনিময়ে বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের বড় অঙ্কের আমদানি এবং বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেওয়ার। চুক্তির মূল আমদানি প্রতিশ্রুতি ও পণ্যসমূহ নিম্নরূপ:
- গাড়ি ও যানবাহন: মোটর গাড়ি, মোটরসাইকেল, যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও অটোমোবাইল পার্টস—যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুসারে যানবাহন আমদানির সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাবে।
- বেসামরিক বিমান: বিমান ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি রয়েছে (বিশেষ করে বোয়িং বিমানের ২৫টি পর্যন্ত ক্রয়ের উল্লেখ পাওয়া গেছে), যা চুক্তির অংশ হিসেবে টেক্সটাইল সুবিধার সাথে যুক্ত।
- জ্বালানি পণ্য: এলএনজি (LNG), তেলসহ অন্যান্য এনার্জি প্রোডাক্ট—১৫ বছরে মোট প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমদানি প্রতিশ্রুতি, যার বার্ষিক গড় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
- কৃষি পণ্য: গম, সয়াবিন, তুলা, ভুট্টা (কর্ন), সয়া প্রোডাক্ট, দুগ্ধজাত পণ্য (ডেইরি), গরুর মাংস (বিফ), মুরগির মাংস (পোল্ট্রি), ট্রি নাটস (বাদাম), ফলমূল ইত্যাদি—প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কৃষি পণ্য আমদানি প্রতিশ্রুতি।
- অন্যান্য শিল্প পণ্য: কেমিক্যালস, মেডিকেল ডিভাইস, মেশিনারি, আইসিটি ইকুইপমেন্ট, ফার্মাসিউটিক্যালস (ইউএস অনুমোদিত) ইত্যাদি—এসব পণ্যের জন্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশ এবং নন-ট্যারিফ বাধা কমানোর প্রতিশ্রুতি।
এছাড়া চুক্তিতে বাংলাদেশকে ই-কমার্সে নতুন শুল্ক না আরোপ করা, ইউএস ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলা এবং ডব্লিউটিও সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব সমর্থন করারও অঙ্গীকার করতে হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের “ঐতিহাসিক নতুন মাত্রা”।
কিন্তু অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের একাংশ এটিকে “একতরফা” বলে সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, মাত্র ১% শুল্ক ছাড় ও সীমিত টেক্সটাইল সুবিধার বিনিময়ে দৃশ্যমান ১৫ বছরে প্রায় ১৮.৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, দেশীয় কৃষি ও শিল্প খাত এবং ভোক্তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ৩২ পাতার এই চুক্তির বিস্তারিতঃ
এই চুক্তি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে স্বাক্ষরিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এটিকে “বিদায়ী উপহার” হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
