❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
কারাবন্দি অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্রমাগত নিপীড়নে একে একে ঢলে পড়ছেন মৃত্যুর কোলে। এই মিছিল ২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পর থেকে এক নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিনা চিকিৎসায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও যুবলীগ নেতা মো. শফিকুল ইসলাম খান (৩৮) মৃত্যুবরণ করেছেন।
আজ ২৭শে ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
মো. শফিকুল ইসলাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে এবং দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা।
তাকে গত বছরের ২৭শে জুন তারিখের দুমকি থানার মামলা নং ১০ এ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালী কারাগারে শফিকুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় তাকে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
‘সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়’, দাবি কর্তৃপক্ষের।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিজয় ২৪ হলের জামায়াতপন্থি প্রভোস্ট অধ্যাপক মাসুদুর রহমানের গত বছরের ২৭শে জুন দায়ের করা মামলায় একই বছরের ১০ই আগস্ট বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয় মো. শফিকুল ইসলামকে।
এরপর থেকেই পটুয়াখালী জেলা কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন তিনি।
তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কারাগার থেকে খবর আসে, মো. শফিকুল ইসলাম কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এরপরেও তার চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। বরং তাকে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেই অবর্ণনীয় অবস্থায় কারাগারে রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেলার আব্দুর রব মিয়া জানান, আগে থেকেই শফিকুল ইসলামের হার্টে রিং পরানো ছিল। শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে পটুয়াখালী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তিনি মারা যান।
পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, কারাবন্দি থাকা অবস্থাতে নিপীড়ন-নির্যাতনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মাত্র ৩৮ বছর বয়সী এই ছাত্র নেতা। সে থেকে চিকিৎসায় অবহেলায় তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে তাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কারাগারে অসুস্থ থাকা অবস্থাতেও তার ওপর চালানো হয় নির্মম অত্যাচার।
এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়েছেন স্বজনরা।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন-এর বরাতে জানা যায়, অপারেশন ডেভিল হান্ট মো. শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

