❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
পাহাড়ী জনপদ কাপ্তাইয়ে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুনকে (৪২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
গতকাল রাত ১০টার দিকে কাপ্তাইয়ের সিনেমা হল এলাকায় হঠাৎ অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে ৪-৫ জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় মুখপোশধারী দল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মামুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এলোপাতাড়ি কোপে তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চন্দ্রঘোনা ক্রিশ্চিয়ান মিশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে তার একটি জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
মামুনের বোন পান্না আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ভাইটাকে ওরা প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। রাজনৈতিক পরিচয়ই কি তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল? আমরা শুধু চাই আমার ভাইটা সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক।”
চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, এখন পুরো পরিবার মামুনের চিকিৎসার দিকে মনোনিবেশ করছে। তবে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই নৃশংস হামলার বিচার দাবি করেছেন।
