সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন চার বছর আগে। গত দুই বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটেও ম্যাচ খেলেছেন স্রেফ একটি। দীর্ঘ সময় সব ধরনের ক্রিকেটের বাইরে থাকা পেসার রুবেল হোসেন বুধবার হুট করেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন মাঠের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় তাঁর এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকটা হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যিনি বছরের পর বছর দলের বাইরে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত নন, তাঁর এই ‘হুট করে’ অবসর ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল। নেটিজেনদের একাংশ একে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হিসেবে দেখলেও রুবেলের ক্যারিয়ারের অর্জনগুলো অবশ্য ছোট করে দেখার মতো নয়।
মাঠের অর্জন ও দীর্ঘ বিরতি
৩৬ বছর বয়সী রুবেল সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। ২০২৪ সালে একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলার পর গত ১৬ মাস তিনি কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটেই ছিলেন না। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর হঠাৎ অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রুবেলের বিদায়ী বার্তা
ফেসবুক পোস্টে রুবেল লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা সব সময়ই আমার কাছে আবেগের বিষয় ছিল। কিন্তু এমন একটা সময় আসে যখন সরে দাঁড়াতে হয়। সেই কথা মাথায় রেখেই আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
স্মরণীয় সেই অ্যাডিলেড
হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে রুবেলের নাম জড়িয়ে আছে ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই বিখ্যাত জয়ের সঙ্গে। অ্যাডিলেডে তাঁর করা সেই দুর্দান্ত স্পেলেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া ওয়ানডেতে তাঁর হ্যাটট্রিক এবং ২৬ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি এখনো দেশের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
ক্যারিয়ারের ১৯৩টি আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক রুবেল হোসেন তাঁর গতি আর আগ্রাসন দিয়ে একটা সময় বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন। মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক আর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ক্যারিয়ারের শেষটা কিছুটা ম্লান হলেও, বাংলাদেশের ক্রিকেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জয়ের নায়ক হিসেবেই তাঁর নাম থেকে যাবে।
