পারমানবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরুঃ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সক্ষমতার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

পারমানবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরুঃ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সক্ষমতার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা: দেশের চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে নতুন এক সম্ভাবনার দিকে। আর মাত্র চার দিনের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এ ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রায় ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষম দেশের কাতারে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে জুলাই মাস নাগাদ কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে (ফুল ফাংশনাল) যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি রিয়্যাক্টর চালুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে জানা গেছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট নিরসনে গত ১২ মার্চ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়, যার ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের মধ্যেই জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও পর্যায়ক্রমে তা ৮-১০ মাসের মধ্যে ১২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে। ২০২৮ সালের মধ্যে দুটি রিয়্যাক্টর চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানি অত্যন্ত কার্যকর ও সাশ্রয়ী—১ কেজি ইউরেনিয়াম প্রায় ৩০ লাখ কেজি কয়লা বা ২৫ লাখ লিটার ডিজেলের সমতুল্য শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম।

পশ্চিমা বিভিন্ন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাশিয়ার অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন ছিল শেখ হাসিনা’র সরকারের সময় বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

অন্যদিকে, মাত্র দুই বছরের মাথায় বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে নির্দিষ্ট এক দেশের আজ্ঞাবহ দাস হিসাবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস-এর সময় সম্পাদিত তথাকথিত “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি”-র কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানী সংকট মোকাবেলা করতে রাশিয়া থেকে ক্রুদ ওয়েল কিনতে বাংলাদেশকে মার্কিন প্রসাশনের অনুমতি প্রার্থনা করতে হচ্ছে, আবার একইসাথে অপ্রয়োজনীয় বোয়িং সহ অন্যান্য মার্কিন কেনাকাটা করতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ, যার কোনটাই বাংলাদেশের সক্ষমতার স্বাক্ষ্য বহন করে না, বরং বাংলাদেশকে পরিণত করেছে আজ্ঞাবহ কৃতদাসে।

প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। গত বছর রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবুও অল্প সময়ের মধ্যে একটি রিয়্যাক্টর চালুর অগ্রগতি অনেকের কাছে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, আগস্ট নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে ধীরে ধীরে দেশের লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে। জ্বালানি সংকটে ক্লান্ত দেশবাসীর কাছে এখন একটাই প্রত্যাশা—রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today