‘পুরনো মদের মতোই ধারালো হ্যারি কেইন’, বললেন বায়ার্ন কোচ

‘পুরনো মদের মতোই ধারালো হ্যারি কেইন’, বললেন বায়ার্ন কোচ
শেয়ার করুন

প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের লড়াই। এর ঠিক আগে দলের প্রাণভোমরা হ্যারি কেইনকে প্রশংসায় ভাসালেন বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। সোমবার তিনি বলেন, ইংলিশ অধিনায়কের বয়স যত বাড়ছে, তিনি যেন ‘পুরনো মদে’র মতোই আরও ধারালো ও পরিপক্ক হয়ে উঠছেন।

চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ১১ ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন হ্যারি কেইন। এর মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল ছিল তাঁর। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বায়ার্নের হয়ে ৪৫ ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৫৩টি গোল করেছেন তিনি।

আগামী জুলাইয়ে হ্যারি কেইনের বয়স ৩৩ পূর্ণ হবে। এই বয়সেও তাঁর এমন পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে হ্যারি কেইন কেবল বক্সের ভেতর দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝমাঠের নিচে নেমে এসে যেভাবে বল জোগান দেন এবং দলের আক্রমণ তৈরিতে অংশ নেন, তা যেকোনো কোচের জন্যই স্বস্তির।

২০২৩ সালে ইংল্যান্ড ছাড়ার পর হ্যারি কেইনকে নিয়ে নিজের ধারণা কতটা বদলেছে—এমন প্রশ্নে কোম্পানি বলেন, ‘তিনি সব সময়ই একজন অসাধারণ গোলদাতা ছিলেন। যেকোনো পজিশন থেকে গোল করার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তাঁর—সেটা হেড হোক কিংবা বাঁ পা বা ডান পায়ের শট। এমনকি দূর থেকেও তিনি দারুণ গোল করতে পারেন।’

কোম্পানি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষমতা বা নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা নিয়ে কখনোই কারও সন্দেহ ছিল না। তবে এখন তাঁর খেলার বুদ্ধি এবং দলের জন্য পরিশ্রম করার মানসিকতা আরও বেশি চোখে পড়ছে। গোল করার পাশাপাশি দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করা মোটেও সহজ নয়। তিনি দিনে দিনে আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠছেন, যা আমাদের দলের জন্য বড় পাওয়া।’

গত নভেম্বরে লিগ পর্বে এই প্যারিসের মাটিতেই ২-১ গোলে জিতেছিল বায়ার্ন। সেই ম্যাচে বায়ার্ন জিতলেও জোড়া গোল করে পাদপ্রদীপে ছিলেন লুইস দিয়াজ, যদিও পরে তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। গত মৌসুমেও দুই দল দুবার মুখোমুখি হয়েছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন জিতলেও পরে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিশোধ নিয়েছিল পিএসজি।

লড়াই হবে সমানে সমান

পিএসজির বিপক্ষে লড়াই প্রসঙ্গে কোম্পানি বলেন, ‘তাঁদের সঙ্গে ম্যাচ মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। প্রতিটি ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে ঠিকই বলেছেন যে, ছোট ছোট ভুলের ওপরই ম্যাচের ভাগ্য ঝুলে থাকবে।’

বায়ার্ন ইতিমধ্যেই বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতেছে এবং জার্মান কাপের ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে পিএসজিও ফরাসি লিগ জয়ের খুব কাছে। ফরাসি দলটিকে আটকানোর কৌশল নিয়ে বায়ার্ন কোচ বলেন, ‘এখানে কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। সুবিধা একটাই, আমরা তাঁদের বিপক্ষে ইদানীং অনেক ম্যাচ খেলেছি। তাঁরা যেমন পাল্টা আক্রমণে (কাউন্টার অ্যাটাক) বিপজ্জনক, আমাদের দলেও সেই একই শক্তি রয়েছে।’

রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কার্ড দেখার কারণে এই ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না কোম্পানি। বায়ার্ন এই ম্যাচে পাচ্ছে না রাফায়েল গেরেরো ও সার্জ নাব্রিকেও। নাব্রির জায়গায় শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে জামাল মুসিয়ালাকে। গত জুলাইয়ে এই পিএসজির সঙ্গে ম্যাচেই পা ভেঙেছিল মুসিয়ালার। সেই স্মৃতি ভুলে আবারও প্যারিসে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

 

 

Visited 14 times, 1 visit(s) today