গণতন্ত্রের আড়ালে অমানবিকতা: কুদ্দুস মোয়াজের বিদায় ও কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন

গণতন্ত্রের আড়ালে অমানবিকতা: কুদ্দুস মোয়াজের বিদায় ও কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, কিন্তু সেই রাজনীতিই যখন প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রাণ হারাতে হয় আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজের মতো নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের। শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের এই কর্মীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ঠিকই, কিন্তু সেই শোকের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিভীষিকাময় নির্যাতনের গল্প।

কুদ্দুস মোয়াজের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তার ওপর নেমে এসেছিল অমানবিক নির্যাতনের এক ভয়াবহ ধারা। প্রথমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কলাবাগান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে আটক, এরপর সেনাবাহিনী এবং সর্বশেষ পুলিশের হেফাজতে দিনের পর দিন পার করা এই পুরো সময়টাই ছিল তার জন্য এক দুঃস্বপ্ন।

অভিযোগ উঠেছে, টানা ৭ মাস কারাবন্দি থাকাকালীন তার ওপর চালানো হয়েছে শারীরিক ও মানসিক স্টিমরোলার। একটি গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্নমতের মানুষের সাথে এমন আচরণ আইনের শাসনের ওপর বড় ধরনের চপেটাঘাত।

মানবিকতার সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার একটি হৃদয়বিদারক তথ্য সামনে এসেছে। টানা দুই দিন তাকে অনাহারে রাখা হয়েছিল। ক্ষুধার জ্বালায় কাতর হয়ে কুদ্দুস তার পকেটে থাকা শেষ ২৫০০ টাকা দিয়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র এক প্লেট ভাতের বিনিময়ে। কিন্তু সেই অর্থ নিয়েও তাকে অন্ন দেওয়া হয়নি।

মানুষের মৌলিক অধিকার যেখানে ভুলুণ্ঠিত, সেখানে গণতন্ত্র কেবল একটি শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়।

দীর্ঘ ৭ মাস অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে মাত্র দুই দিন আগে জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন কুদ্দুস। পরিবারের আশা ছিল, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতন আর অনাহার তার শরীরের জীবনীশক্তি কেড়ে নিয়েছিল। অবশেষে গত মধ্যরাতে পৃথিবীর সব মায়া ত্যাগ করে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

কোনো সুস্থ বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে এভাবে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া কাম্য নয়। ভিন্নমত দমনের এই সংস্কৃতি কেবল বিভেদ আর ঘৃণাই তৈরি করে। আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজের এই মৃত্যু আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ক্ষমতার লড়াইয়ে মানবিকতা আজ কতটা বিপন্ন।

তার চলে যাওয়া আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করল। প্রশ্ন রয়ে গেল একটি স্বাধীন দেশে নিজের রাজনৈতিক আদর্শ লালন করার মূল্য কি তবে এভাবেই জীবন দিয়ে দিতে হবে?

Visited 17 times, 1 visit(s) today