❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার দিকে যাওয়া প্রধান সড়কটি ক্রমশ হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। ১০০ ফুট প্রশস্ত এই সড়কের চার লেনের মধ্যে তিনটি লেনই এখন অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানদারদের নিয়ন্ত্রণে।
ফলে বাস, রিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলের জন্য মাত্র একটি লেন অবশিষ্ট থাকছে, যা এলাকার যানজট পরিস্থিতিকে ভয়াবহ আকার দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকেই হকাররা সড়ক দখল শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দখলের পরিধিও বাড়তে থাকে। দুপুরের মধ্যে দুই সারি দোকান বসে যায় এবং বিকেলের দিকে কোথাও কোথাও তিন সারি পর্যন্ত দোকান পসরা বিস্তার করে।
মাছ, সবজি ও পোশাকসহ নানা ধরনের পণ্যের অস্থায়ী ভ্যান ও দোকান শুধু ফুটপাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং মূল সড়কেও ছড়িয়ে পড়ছে।
বাঙ্গি বিক্রেতা শহীদুল জানান, ভ্যান বসানোর জন্য বুকিং নিয়েছেন তারা। তার ভাষ্যে, ‘রাস্তার খাজনা দিয়েই বুকিং নিছি”।
খাজনা অর্থাৎ চাঁদা দিয়ে জায়গা বরাদ্দ নেওয়ার কথা স্বীকার করলেন অন্য হকাররাও। শরবত বিক্রেতা মোসাদ্দেক এবং ডাব বিক্রেতা মামুনও চাঁদা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন। তবে কেউই রাজি হননি চাঁদা তোলে কারা, সে বিষয়ে জানাতে।
তাদের ভাষ্য, এতে তাদের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাবে।
সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, এই সড়কটি কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ। অথচ হকার দখলের কারণে সড়কটি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসছে না বলে অভিযোগ তাদের।
পথচারীরা জানান, দিনের বেলায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও রাতেই পুরো সড়ক আবার দখল হয়ে যায়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে অভিযান চালানোর পরেও হকাররা পুনরায় বসে পড়ায় সমস্যা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।
তারা আরও জানিয়েছেন, এই অবৈধ দখলের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য আছে।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, প্রশাসনের বারবার অভিযান সত্ত্বেও চাঁদাবাজ চক্রের মদদে হকাররা আবার ফিরে আসছেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর সড়ক দিনের পর দিন কার্যত দখলমুক্ত হচ্ছে না।
