সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ যেন বাংলাদেশ দলেরই দিন ছিল। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে বেশ ভালোভাবেই চাপে ফেলেছে স্বাগতিকরা। ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে। সব মিলিয়ে লিড এখন দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রানের। হাতে আছে আরও ৩ দিন। ক্রিজে ১৩ রান নিয়ে লড়ছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে দিনের শেষভাগে মোমিনুল হকের উইকেটটি হারানো কিছুটা আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
### প্রথম সেশন: তাসকিন আর মিরাজের স্পেল
সকালে পাকিস্তান যখন বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে খেলা শুরু করে, তখন হয়তো ভাবেনি দিনের শুরুটা এমন হবে। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁর অফ স্ট্যাম্পের বাইরের এক চমৎকার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল (৯)।
কিছুক্ষণ পর তাসকিন নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে (১৩)। তাসকিনের ইন-সুইং বল বুঝতে না পেরে শর্ট লেগে মোমিনুল হকের হাতে সহজ ক্যাচ দেন আজান।
২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন বাবর আজম ও শান মাসুদের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখনই স্পিন নিয়ে হাজির হন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৮ রানের এই জুটিটি ভাঙেন তিনি শান মাসুদকে (২১) আউট করে। মিরাজের বলে কাভার ড্রাইভে মারতে গিয়ে সোজা শর্ট কাভারে ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দেন মাসুদ। এর পরপরই সৌদ শাকিলকেও (৮) সাজঘরের পথ দেখান মিরাজ। লাঞ্চের বিরতিতে যাওয়ার সময় পাকিস্তানের রান ছিল ২ উইকেটে ৯৬।
### দ্বিতীয় সেশন: নাহিদ রানা ও তাইজুলের ঘূর্ণি
লাঞ্চের পর বাবর আজম এবং সালমান আঘা মিলে পাকিস্তান দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন। বাবর আজম বেশ ভালো খেলছিলেন এবং হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন। ঠিক তখনই তরুণ পেসার নাহিদ রানা বাংলাদেশের জন্য কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু এনে দেন। রানার গতির তারতম্যে বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন ৬৮ রান করা বাবর আজম।
বাবর বিদায় নেওয়ার পর পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তিনি একে একে ফিরিয়ে দেন সালমান আঘা (২১) এবং দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (১৩)। লাঞ্চের পরের সেশনে তাইজুল একাই ৩টি উইকেট নেন মাত্র ৪৮ রান খরচ করে। চা-বিরতির সময় পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২০৬ রান।
### শেষ সেশন: লিড ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস
চা-বিরতির পর পাকিস্তানের টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যান সাজিদ খান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি মাত্র ২৮ বলে ৪টি ছক্কা ও ২টি চারে ৩৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানা তাঁকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস ২৩২ রানে গুটিয়ে দেন। এর ফলে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৪ রান করে খুররম শাহজাদের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তবে এরপর হাল ধরেন মাহমুদুল হাসান জয় এবং মোমিনুল হক। দুজনে মিলে দারুণ এক জুটি গড়ে দলের লিড একশো পার করেন।
জয় ১০টি চারের সাহায্যে ৬৪ বলে ৫২ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে আউট হন। ডিপ অঞ্চলে আবদুল্লাহ ফজল এক দারুণ ডাইভিং ক্যাচে জয়কে বিদায় করেন। জয় যখন আউট হন, বাংলাদেশের লিড ততক্ষণে ১৩৭ রানে পৌঁছে গেছে।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মোমিনুল হক ৬০ বলে ৩০ রান করে খুররমের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন। এই উইকেটটি না পড়লে দিনটি বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি নিখুঁত হতে পারত। তবে ৩ উইকেট হারালেও ১৫৬ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে।
